নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি কাছে আসছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও দুই দেশের কর্মকর্তারা পরস্পরবিরোধী কথা বলছেন। কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো কাটেনি।বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বললেন, আলোচনার ফলে ইরান কোনো নিষেধাজ্ঞা ছাড় পাবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা অর্থ দেওয়ার কথা বলছি না।’একই দিনে পিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প বলেন, ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেবে। তিনি বলেন, ‘তারা তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেবে, নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের বিনিময়ে নয়। না, না, মোটেই না।’এর আগে সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ‘হয় সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করে দেশে এনে ধ্বংস করতে হবে, নয়তো ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে মিলে সেখানেই ধ্বংস করতে হবে।’ কিন্তু তেহরান বলছে, তাদের কাছে থাকা আনুমানিক ৪৪০ কেজি পারমাণবিক উপাদান তারা ছাড়বে না।এক মাসেরও বেশি আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরেনিয়াম নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু তেহরান তখনই সেই কথা অস্বীকার করে।পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা, ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছে।মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘তারা খুব চুক্তি করতে চায়।’ তবে সঙ্গে সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমরা এতে সন্তুষ্ট নই, তবে হব। হয় সেটা হবে, নয়তো আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’ এতে আরও সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন তিনি।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি কোনো উসকানি ছাড়াই ইরানে হামলা শুরু করে। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। শত শত বেসামরিক মানুষও মারা যান। ইরান এর জবাবে ইসরায়েল ও পুরো অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের ২০ শতাংশের বেশি যায়।এই অবরোধে সারা বিশ্বে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জোর করে প্রণালীটি খুলতে পারেনি।বুধবার ট্রাম্প বলেন, ইরান তার কাছ থেকে ছাড় আদায়ের আশায় সময় কাটাতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘আমি মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরোয়া করি না। মানুষ বিষয়টা বোঝে, খুব সহজ কথা, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।’হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে যৌথ নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব নাকচ করে ট্রাম্প বলেন, ‘ওমান সবার মতো আচরণ করবে, নইলে আমাদের ওদের উড়িয়ে দিতে হবে। তারা সেটা বোঝে। তারা ঠিকঠাক থাকবে।’