নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ রাজ্যে স্বাস্থ্যপরিসেবা উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে ব্যর্থতায় পরিণত করে চলছে একাংশের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দিনের পর দিন এই গাফিলতি জনিত ঘটনাগুলো বেড়েই চলছে। চিকিৎসকের চূড়ান্ত গাফিলতিতে আবার এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠল ।ঘটনা শুক্রবার সকালে রাজধানীর আইজিএম হাসপাতালে। জানা গেছে ভিভা দেবনাথ নামে আমতলী এলাকার এক সন্তান সম্ভবা গৃহবধূকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা নাগাদ আইজিএম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ।ভর্তি করানোর পর প্রায় ১৮ ঘন্টা চিকিৎসকরা রোগীর কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ ।হাসপাতালের ইন্টার্নীরা রোগীকে কেবল দেখেই যাচ্ছিল ।সিনিয়র চিকিৎসকের কোন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।ইন্টার্নীরা প্রসূতির সিজার হবে কিনা সেই বিষয়েই সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না। বহু তালবাহানার পর শুক্রবার সকাল পাঁচটা নাগাদ রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। সাড়ে পাঁচটা নাগাদ রোগীর পরিজনরা মৃত্যুর সংবাদ পান । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর পরিজনরা উত্তেজিত হয়ে উঠেন ।অবস্থা বেগতিক বুঝে চিকিৎসকরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ ।পরে চিকিৎসকরাই খবর দিয়ে হাসপাতালে পুলিশ ডেকে আনেন ।এদিন মৃত গৃহবধূর এক নিকট আত্মীয় এই সংবাদ জানান ।তিনি জানান ,রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান বাড়াতে মুখ্যমন্ত্রী চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু একাংশের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের খামখেয়ালীপনায় মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রচেষ্টা ভেস্তে যাচ্ছে। আইজিএম হাসপাতালের পরিষেবা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে ।এর ফল স্বরূপ সুস্থ সন্তান সম্ভবা রোগীকে ভর্তি করিয়ে ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে যেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি ।তিনি আরো জানান ,চিকিৎসকের গাফিলতির কারণে দুটো তাজা প্রাণ নষ্ট হল।এই ঘটনায় মৃতার আত্মীয় পরিজন হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন বলে জানান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইজিএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রুগীর পরীজনদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ ছড়ায়।