কদমতলা বাজারে ফের দুঃসাহসিক চুরি,মোবাইল দোকান থেকে ৮-১০ লক্ষ টাকার সামগ্রী উধাও; নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভে ব্যবসায়ীরা

Jul 16, 2026

কদমতলা বাজারে ফের দুঃসাহসিক চুরি,মোবাইল দোকান থেকে ৮-১০ লক্ষ টাকার সামগ্রী উধাও; নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভে ব্যবসায়ীরা

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ   আসাম-ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা থানাধীন কদমতলা বাজারে ফের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দোকানে চুরির পর এবার নিশানা করা হয়েছে একটি মোবাইলের দোকান। পরপর এমন ঘটনায় আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।জানা গেছে,      কদমতলা সবজি বাজারের সামনে দ্বিতল ভবনে অবস্থিত 'জে কে মোবাইল' নামের দোকানে বুধবার গভীর রাতে চুরি কান্ড সংঘটিত হয়। দোকানের মালিক কামরুল হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১১টায় দোকান খুলতেই দেখতে পান দোকানের ভেতরের সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।প্রাথমিকভাবে তদন্তে জানা যায়, দুষ্কৃতীরা দোকানের টিনের ছাউনি কেটে ফলস সিলিং ভেঙে অত্যন্ত কৌশলে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর দোকানের বৈদ্যুতিক সংযোগ ও সিসিটিভির তার কেটে দেয়। পাশের একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে চোরের কোমর পর্যন্ত অংশ দেখা গেলেও, মুখমণ্ডল ধরা পড়েনি, কারণ সে আগে থেকেই ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।দোকান মালিকের দাবি, দোকানে নগদ অর্থ না থাকলেও বিভিন্ন নামী সংস্থার বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফোন মজুত ছিল। বৃহস্পতিবার থেকে বিশেষ অফার শুরু হওয়ার কথা থাকায় আগের দিনই অতিরিক্ত মোবাইল ফোন এনে রাখা হয়েছিল। চোরের দল সেখান থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের মোবাইল ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে আশ্চর্যজনকভাবে দোকানে থাকা আইফোনগুলো অক্ষত অবস্থায় রেখে যায় তারা।ঘটনার খবর পেয়ে বাজার কমিটির সদস্যরা এবং কদমতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চুরি চক্রের কোনো সদস্যকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।এদিকে, দোকান মালিকের বড় ভাই রুহেল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কদমতলা বাজারে নিয়মিত নৈশপ্রহরী ও পুলিশের টহল থাকা সত্ত্বেও প্রায় প্রতি বছরই তাঁর 'রুহেল মোবাইল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স' দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এবার একই পরিণতি হলো তাঁর ছোট ভাইয়ের দোকানেরও। অথচ আজ পর্যন্ত কোনো চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।তিনি দাবি করেন, বাজারের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত চুরি চক্রকে শনাক্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বাজারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।পরপর দুই দিনে কদমতলা বাজারে সংঘটিত বড় ধরনের চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এখন সকলের নজর পুলিশের তদন্তে-এই দুঃসাহসিক চুরির রহস্য উদ্ঘাটন করে অপরাধীদের কত দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়, সেটাই দেখার বিষয়।

বিভাগ

সর্বশেষ খবর