নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ পঞ্জিকার পাতা জানান দিচ্ছে, আর বেশি দিন বাকি নেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয়া দুর্গাপূজার। মা দুর্গার আগমনী সুরে ইতিমধ্যেই উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। সেই আবহকে আরও বর্ণময় করে তুলতে তেলিয়ামুড়ার ঐতিহ্যবাহী প্রোগ্রেসিভ ইয়ুথ ক্লাব এবার তাদের শারদীয়া দুর্গোৎসবের ৫১তম বর্ষে পদার্পণ করছে।এই মহা উৎসবের শুভ সূচনা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই), প্রথম রথযাত্রার পবিত্র দিনে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদকে সঙ্গী করে তেলিয়ামুড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় খুঁটি পূজা। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মণ্ডপ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে ক্লাবের সদস্য, বিশিষ্টজন, ভক্ত-অনুরাগীর উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রোগ্রেসিভ ইয়ুথ ক্লাব খোয়াই জেলার অন্যতম বনেদি ও জনপ্রিয় দুর্গাপূজার আয়োজক হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরই ব্যতিক্রমী থিম, নান্দনিক মণ্ডপ, আধুনিক আলোকসজ্জা এবং সৃজনশীল উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে এই পূজা। জেলার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও অসংখ্য মানুষ এই পূজা উপভোগ করতে তেলিয়ামুড়ায় ভিড় জমান।ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, এবারের দুর্গাপূজার মূল থিম হিসেবে নির্মিত হবে অযোধ্যার ঐতিহাসিক রাম মন্দিরের আদলে এক মনোমুগ্ধকর মণ্ডপ। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে অত্যাধুনিক লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো, যা পূজার আকর্ষণকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।এছাড়াও এবারের আয়োজনের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে খোয়াই জেলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে জাঁকজমকপূর্ণ ‘রাবণ বধ’ অনুষ্ঠান। দশেরা উপলক্ষে এই বিশেষ উপস্থাপনায় বিশালাকৃতির রাবণের প্রতিকৃতি দহন, আলোকসজ্জা, আতশবাজি এবং মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের এক অনন্য অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশা, এই অভিনব আয়োজন শুধু তেলিয়ামুড়া নয়, গোটা খোয়াই জেলার মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে।ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি, ঐক্য ও সামাজিক বন্ধনের এক মহামিলন। তাই এই উৎসবকে সর্বজনীন রূপ দিতে সকল শুভানুধ্যায়ী, ভক্তবৃন্দ এবং তেলিয়ামুড়াবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও উপস্থিতি কামনা করা হয়েছে। ক্লাবের মতে, মানুষের ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও সক্রিয় অংশগ্রহণই তাদের ৫১ বছরের গৌরবময় পথচলার মূল শক্তি।খুঁটি পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো এবারের শারদীয়া দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। এখন থেকে পুরোদমে চলবে মণ্ডপ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, থিম বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য প্রস্তুতির কাজ। সব মিলিয়ে এবারের প্রোগ্রেসিভ ইয়ুথ ক্লাবের দুর্গোৎসব যে তেলিয়ামুড়া তথা খোয়াই জেলার অন্যতম সেরা আকর্ষণে পরিণত হতে চলেছে, সে বিষয়ে আশাবাদী উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই।