নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃফুটবল বিশ্বের এই সময়ের সেরা তারকাদের মধ্যে অন্যতম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের এই সুপারস্টারের বর্তমান বয়স ৪১ বছর। পড়ন্ত বয়সে থাকা রোনালদো হয়তো কিছু দিনের মধ্যেই ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন।সদ্য শেষ হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপে স্পেনের কাছে হেরে নকআউট পর্বের আগেই বিদায় নেয় পর্তুগাল। ম্যাচের পরই রোনালদো জানিয়ে দেন, এটিই ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে এখনই অবসরের ঘোষণা দেননি তিনি। ফলে নতুন কোচ জর্জ জেসুসের অধীনে আরও কিছু ম্যাচে তাকে দেখা যেতে পারে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তার অধ্যায়ের ইতি টানা হয়ে গেছে।ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো অবসর নিলে পর্তুগাল নিজেদের কীভাবে নতুন করে পরিচয় করাবে বিশ্বের কাছে? কারণ, রোনালদো শুধু জাতীয় দলের একজন ফুটবলার ছিলেন না। তিনি নিজেই হয়ে উঠেছিলেন একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড।আন্তর্জাতিক পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা, প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি, দুই দশকের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ—এসব অর্জন তাকে পরিসংখ্যানের বাইরে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কিন্তু মাঠের বাইরের প্রভাবটাও ছিল সমান শক্তিশালী।পর্তুগিজ সংবাদ সংস্থা লুসাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ দানিয়েল সা বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন স্পষ্ট ভাষায়, ‘বিষয়টি শুনতে কিছুটা কঠোর মনে হতে পারে। তবে ব্র্যান্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে পর্তুগাল জাতীয় দল এবং আরও অনেক দলকে একসঙ্গে মেলালেও তাদের চেয়ে এককভাবে অনেক বেশি বড় রোনালদো।’রোনালদোর বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পর্তুগালের জন্য এনে দিয়েছে অসংখ্য স্পন্সরশিপ, বাণিজ্যিক চুক্তি এবং নতুন বাজার। ইউরোপের বাইরের কোটি কোটি মানুষও পর্তুগালের খেলা দেখতে শুরু করেছিলেন মূলত একজন ফুটবলারের জন্য।দানিয়েল সা আরও বলেন, ‘আমি কোনো খেলাধুলার বিশ্লেষণ করছি না, করছি ব্র্যান্ডের বিশ্লেষণ। তিনি যখন চলে যাবেন, তখন তা একটা বড় ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়াবে। কারণ কী পরিমাণ প্রচার ও গণমাধ্যমের মনোযোগ আমরা হারাতে যাচ্ছি, তা মানুষ এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছে না। আমরা যেন খুব দ্রুত নিচের দিকে নামতে থাকা কোনো চলন্ত সিঁড়ি থেকে ছিটকে পড়ব। বিগত ২০ বছর ধরে তিনি একাই পর্তুগালকে অসংখ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়েছেন এবং প্রচুর অর্থ উপার্জনে সহায়তা করেছেন।’