নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃইরানের সঙ্গে আলোচনায় সেনা নিহতের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চাইবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে তেহরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করার পর পালটা এ দাবি করেন ট্রাম্প। খবর মিডল ইস্ট আইয়েরসোমবার (১১ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, গত পাঁচ মাসের সামরিক সংঘাতে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য দেশটির পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হচ্ছে। আমিও ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।’ট্রাম্প জানান, শুধু বর্তমান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য নয়, ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের পর গত দুই দশকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় নিহত মার্কিন সেনাদের জন্যও ক্ষতিপূরণ চান তিনি।তিনি বিশেষভাবে ইরানের প্রয়াত জেনারেল কাসেম সোলাইমানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা হামলায় মার্কিন সেনাদের মৃত্যু ও আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। ইরাক দখলের সময় ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি ইরান শিয়া মিলিশিয়াদের এসব বোমা সরবরাহ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ইরাকে কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তেহরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহযোগিতার অভিযোগে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল।ট্রাম্পের পোস্টে ইউএসএস কোল যুদ্ধজাহাজে ২০০০ সালের হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই হামলার জন্য ইরান নয়, আল-কায়েদাকে দায়ী করেছে।এ ছাড়া, চলতি বছরের শুরুতে বিক্ষোভ দমনের সময় নিহত ইরানি নাগরিকদের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ট্রাম্প। তেহরানে বিক্ষোভ দমনের ঘটনাকে তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের দাবি, ওই ঘটনায় ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তবে ইরানের একজন কর্মকর্তা নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৫ হাজার বলে জানিয়েছেন।শান্তি আলোচনায় মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণকে ট্রাম্প সত্যিই যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে দেখছেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে তার বক্তব্য এসেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেইয়ের—যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না ইরান— এমন মন্তব্যের পর।