মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ইরান উদ্বিগ্ন নয়: বাঘেই

Aug 11, 2026

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ইরান উদ্বিগ্ন নয়: বাঘেই

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃসৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’-কে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, এই চুক্তি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে—এমন আশঙ্কার কোনো কারণ তারা দেখছেন না।গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) পবিত্র নগরী মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে এই নিরাপত্তা চুক্তি সই হয়।চুক্তির বিষয়ে সোমবার (১০ আগস্ট)  বাঘেই বলেন, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আঞ্চলিক দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা বিষয়ে নতুন ধরনের আঞ্চলিক কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার মতে, এর মাধ্যমে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতার পরিবর্তে নিজেদের সক্ষমতার ওপর বেশি নির্ভর করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার ভিত্তিতে তৈরি, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এবং শত্রু ও হুমকিকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে—এমন যেকোনো পরিকল্পনা নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে।’ তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের এই নতুন জোটের মূল লক্ষ্য ইরানকে মোকাবিলা করা। তিন দেশেই প্রধানত সুন্নি মুসলিম জনগোষ্ঠী রয়েছে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ হলেও তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে তেহরানের তুলনামূলক ভালো সম্পর্ক রয়েছে।হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইরানের দাবি, দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে তারা হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করেছে।অন্যদিকে, সৌদি আরবের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ইরান পালটা হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে দক্ষিণের প্রতিবেশী ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনেরও নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে।সৌদি বিমান হামলার জবাবে হুথিরা রিয়াদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ রোববার ভোরে জিজান প্রদেশে ড্রোন হামলার পর সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগারে ব্যাপক আগুন ছড়িয়ে পড়ে।এদিকে, সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড এবং লিবিয়ার মতো বিভিন্ন সংঘাতে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন করা নিয়ে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সম্পর্কে একসময় টানাপোড়েন তৈরি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে।অন্যদিকে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহযোগী। তবে একই সঙ্গে ইসলামাবাদ ইরানসহ অন্যান্য মুসলিম-প্রধান দেশের সঙ্গেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে।

বিভাগ