নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের আহবানে সারা দিয়ে ১৯৯৫ সালে অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে এন এল এফ টি ও এ টি টি এফ বৈরীদের বৃহৎ অংশের একটি দল। এই আত্মসমর্পণের পর কেটে গেছে ৩৩ টি বছর। এখন পর্যন্ত চুক্তি অনুসারে তাদের জন্য কোন প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়নি। চুক্তি মত পুনর্বাসন এবং প্যাকেজ না পেয়ে আত্মসমর্পণকারী বৈরী দলের সদস্যরা নিদারুণ পরিস্থিতির মতো দিয়ে জীবন যাপন করছেন । এই অবস্থায় চুক্তি অনুসারে পুনর্বাসন প্রদান এবং প্যাকেজ ঘোষণা সহ ৯ দফা দাবির ভিত্তিতে একাধিকবার জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধের ডাক দিয়েছিল এই দুই বৈরী গোষ্ঠীর দুটি সংগঠন জয়েন্ট একশন কমিটি বা জেএসি এবং জয়েন্ট অ্যাকশন রিহ্যাবিলিটেশন কমিটি বা জে এ আর সি। সম্প্রতি তেরো আগস্ট এই দুটি সংগঠন জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধের ডাক দেয়। কিন্তু রাজ্য প্রশাসনের আহবানে সাড়া দিয়ে সেই আন্দোলন সূচি প্রত্যাহার করে নেয়। তাদের অভিযোগ ,এই বিষয়টি নিয়ে বর্তমান সময়ে রাজ্য প্রশাসন এবং রাজ্য সরকার ভাবলেশহীন। এই অবস্থায় আত্মসমর্পণকারী বৈরী দলের দুটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মনে করছে, তাদের দাবি পূরণের শেষ ভরসা রাজ্যপাল ।তাই বৃহস্পতিবার দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি যৌথ প্রতিনিধি দল রাজ্যপালের সাথে দেখা করে ৯ দফা দাবি সম্মিলিত একটি স্মারক লিপি রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লুর হাতে তুলে দেয়। এদিন জে এ সি এবং জেএআরসি'র পক্ষে দুটি সংগঠনের আহ্বায়ক এবং প্রবক্তা জীবন জয়-রিয়াং জানান, অবিলম্বে দাবি পূরণ করা না হলে তারা আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন সংঘটিত করে তুলতে বাধ্য হবেন। জানা গেছে চলতি মাসেই আত্মসমর্পণকারী বৈরীদের দুটি সংগঠন জে এ সি এবং জে এ আর সি যৌথভাবে এক বৈঠকে মিলিত হতে চলেছে। এই বৈঠকেই বিস্তারিতভাবে আলোচনাক্রমে পরবর্তী আন্দোলন সূচি ঘোষণা করা হবে।