নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোর মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় বুধবার এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে ডলারের দর সীমিত পরিসরে ওঠানামা করেছে। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় জ্যাকসন হোল সম্মেলনের আগে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের সতর্ক অপেক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।গত এক সপ্তাহ ধরে প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে যে সীমিত পরিসরে ডলারের লেনদেন হচ্ছিল, বুধবারও তা খুব একটা বদলায়নি। দিনের পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই মাসের ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচকের তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। মূল্যস্ফীতির এই তথ্যের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।ওয়েস্টপ্যাকের বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে ওই অঞ্চলে মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা এবং ইরান ও ওমানের মধ্যকার প্রণালি পুনরায় চালুর উদ্যোগ রয়েছে। এসব কারণে তেলের দামে চাপ তৈরি হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে।ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের শক্তি পরিমাপকারী ডলার সূচক মঙ্গলবার টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বগতি হারিয়েছে। বুধবার এশিয়ার লেনদেনের শুরুতে সূচকটি ৯৮ দশমিক ৯১৮-এ প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।এদিকে বুধবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমেছে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পরিচালনার বিষয়ে প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে তারা আবার আলোচনা শুরু করেছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির রয়েছে।অস্ট্রেলিয়ার মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের পর দেশটির ডলার শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে শূন্য দশমিক ৭১৭২ মার্কিন ডলারে উঠেছে। তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মূল ভোক্তা মূল্যসূচকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক ট্রিমড মিন সিপিআই বার্ষিক হিসাবে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের ডলার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে শূন্য দশমিক ৫৯৬২ মার্কিন ডলারে নেমেছে। আগামী বুধবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত রয়েছে। বাজারে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউজিল্যান্ড সুদের হার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ করতে পারে।কানাডিয়ান ডলারের বিপরীতেও মার্কিন ডলার শূন্য দশমিক ১ শতাংশ দুর্বল হয়ে প্রতি ডলারে ১ দশমিক ৩৮৪০৫ কানাডিয়ান ডলারে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর কানাডা মঙ্গলবার প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ এবং ব্যবসা ও কর্মীদের জন্য সহায়তা ঘোষণা করে। এর পরই ডলারের কিছুটা দর কমে।