নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ রেললাইনে ধসের জেরে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় এবার চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তের যাত্রীরা। শিয়ালদহ–সাব্রুম কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস বাতিল হওয়ার খবরের পর থেকেই বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।অভিযোগ, গতকাল রাতে শিয়ালদহ থেকে আসা কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ধর্মনগর পর্যন্ত এসে কার্যত থেমে যায়। ট্রেনের মধ্যে থাকা আগরতলা, তেলিয়ামুড়া, সাব্রুম-সহ ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা ধর্মনগরে নেমে পড়লেও এরপর নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা।অন্যদিকে, ধর্মনগর থেকে ট্রেনটি আজ সকাল প্রায় ১১টার সময় পুনরায় শিয়ালদহের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফলে দূরদূরান্ত থেকে ধর্মনগরে এসে ট্রেন ধরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েন।একদিকে সড়কপথে বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ ও যোগাযোগের সমস্যা, অন্যদিকে রেল পরিষেবা ব্যাহত—দুই দিকের সমস্যায় কার্যত চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।বিশেষ করে আগরতলা, তেলিয়ামুড়া, উদয়পুর, সাব্রুমসহ দক্ষিণ ও মধ্য ত্রিপুরার যাত্রীরা ধর্মনগরে এসে আটকে পড়ছেন। আবার ধর্মনগর ও উত্তর ত্রিপুরার যেসব যাত্রী আগরতলা বা দক্ষিণ ত্রিপুরার দিকে যাওয়ার জন্য ট্রেনের ওপর নির্ভর করেন, তাঁরাও পড়েছেন অনিশ্চয়তার মধ্যে।ফলে ধর্মনগর স্টেশন চত্বরে দেখা দিয়েছে যাত্রীদের ভিড় এবং উদ্বেগ। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। কারও সঙ্গে রয়েছে শিশু, কারও সঙ্গে বয়স্ক মানুষ—পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।রেললাইনে ধসের কারণে উত্তরবঙ্গ ও পূর্বাঞ্চলের একাধিক ট্রেনের পরিষেবা ইতিমধ্যেই বিঘ্নিত হয়েছে এবং রেল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত লাইনে মেরামতের কাজ চালাচ্ছে।যাত্রীদের দাবি, রেল পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা এবং যাত্রীদের সঠিক তথ্য দ্রুত দেওয়া হোক। একইসঙ্গে ধর্মনগরে আটকে পড়া যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য প্রশাসন ও রেল কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে।রেল পরিষেবা কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, আর ধর্মনগরে আটকে থাকা যাত্রীরা কীভাবে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছবেন—এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।