ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে চরম ক্ষোভ, জরুরি বিভাগে একজন চিকিৎসক দিয়ে পরিষেবা চালানোর অভিযোগ

Sep 15, 2026

ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে চরম ক্ষোভ, জরুরি বিভাগে একজন চিকিৎসক দিয়ে পরিষেবা চালানোর অভিযোগ

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে এসে যদি চিকিৎসকই না মেলে, তাহলে অসহায় রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা কোথায় যাবেন? ধর্মনগর জেলা হাসপাতালকে ঘিরে এমনই এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় ক্ষোভে ফুঁসছেন রোগী ও তাঁদের পরিজনরা।অভিযোগ, হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসার পরও সময়মতো চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বহু মানুষ। এমনকি চিকিৎসক না পেয়ে এক অসহায় মাকে কাঁদতে কাঁদতে হাসপাতাল থেকে ফিরে যেতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার বাস্তব চিত্র নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, জরুরি চিকিৎসার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা একজন চিকিৎসককে দিয়ে চালানো হচ্ছে। একসঙ্গে একাধিক রোগী হাসপাতালে এলে পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। ফলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা পরিবারগুলোর মধ্যে তৈরি হচ্ছে আতঙ্ক ও চরম অনিশ্চয়তা।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে—জেলা পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জেলা হাসপাতালে যদি জরুরি মুহূর্তে পর্যাপ্ত চিকিৎসকই না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পাবেন কোথায়? সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো নিয়ে যখন বারবার নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তখন বাস্তবে হাসপাতালের এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।চিকিৎসা পরিষেবা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়—এটি মানুষের মৌলিক অধিকার ও সরকারি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই চিকিৎসক সংকটের যে অভিযোগ উঠেছে, এর দায় এড়ানোর সুযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই। রোগীদের হয়রানি এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবায় ঘাটতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে।এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য দপ্তর কী বলছে, কেন পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই এবং জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ সামলাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—তা স্পষ্ট করা অত্যন জরুরি বলে মনে করছেন ধর্মনগরের সাধারণ মানুষ।অসুস্থ মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসবেন, আর চিকিৎসক না পেয়ে চোখের জলে ফিরে যাবেন—এমন চিত্র কোনোভাবেই একটি জেলা হাসপাতালের স্বাভাবিক চিত্র হতে পারে না। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের পর কর্তৃপক্ষ আদৌ নড়েচড়ে বসে কি না, নাকি ফের প্রতিশ্রুতির আড়ালেই চাপা পড়ে যাবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ।

বিভাগ