‘ইরানকে পারমানবিক জ্বালানি সরবরাহে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র’

Sep 16, 2026

‘ইরানকে পারমানবিক জ্বালানি সরবরাহে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র’

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর স্থায়ী সমাধান হলে দেশটির বেসামরিক শক্তির জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ব্লুমবার্গ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট মনিটর’ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।ক্রিস রাইটের এই প্রস্তাবটি মূলত ইরানের আলোচিত পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। ক্রিস রাইটের দাবি, ইরানের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা। যদিও ইরান শুরু থেকেই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের দাবি, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের কোনো চেষ্টা করেনি।সাক্ষাৎকারে ক্রিস রাইট আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই বিরোধ মিটে গেলে ইরান আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মূল স্রোতে ফিরে আসতে পারে এবং নিজেদের জনগণের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে।এদিকে আলোচনার টেবিলে জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাবের পাশাপাশি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী সামরিক প্রস্তুতিও চলছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এবার একটি ‘নির্ণায়ক হামলা’ চালানোর কথা তীব্রভাবে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছর ইরানের প্রধান নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের আশপাশে নতুন ‘নির্মাণকাজে স্পষ্টভাবে বড় ধরনের বৃদ্ধি’ শনাক্ত হওয়ার পরই ওয়াশিংটন এই কঠোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।উল্লেখ্য, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সটি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত।পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন। হুংকার দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, ইরানকে যদি আবারও সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হয়, তবে তা হবে ‘অনেক বেশি হারে বোমা হামলা’ এবং এর ফলে দেশটি ‘কখনোই আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না’।এ সময় বিশেষ করে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকায় ধ্বংসাত্মক সামরিক হামলা চালানোর জোরালো সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। মূলত ওই নির্দিষ্ট পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে সন্দেহজনক তৎপরতা ও মানুষের চলাচল শনাক্ত হওয়ার পরই এই চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’ বলে রাখা ভালো, এই পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এলাকাটি সংবেদনশীল নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের ঠিক কাছাকাছিই অবস্থিত।

বিভাগ