নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) যে প্রস্তাব পাস করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান অপরিবর্তনীয় এবং নিজেদের পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমে তা সুরক্ষিত রয়েছে।শনিবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কথা জানায়।অন্য এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থাটির বিরুদ্ধে দ্বৈত নীতির অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আইএইএর ‘পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি ও দ্বৈত মানদণ্ড’ আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।কিম ইয়ো জং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পষ্ট পরমাণু অস্ত্র বিস্তার কার্যক্রম’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘পরমাণু সাবমেরিন চালুর পরিকল্পনা’ সম্পর্কে আইএইএ চোখ বন্ধ করে রয়েছে। অথচ উত্তর কোরিয়ার ‘আত্মরক্ষামূলক ও বৈধ পরমাণু কার্যক্রমের’ বিরুদ্ধে জোর করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে সংস্থাটি।উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অভিযোগ করেছে, চলতি সপ্তাহে আইএইএর সাধারণ সম্মেলনে শত্রুভাবাপন্ন শক্তিগুলো দেশটির পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করেছে।মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর তৈরি করা এই প্রস্তাব উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থানের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।এদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে কিম জং উন তিন দিন ধরে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অস্ত্র ও গোলাবারুদ কারখানা পরিদর্শন করেছেন।বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করার পর রাশিয়ার সহায়তায় পিয়ংইয়ং নিজেদের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠন করছে। ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের অংশগ্রহণ থেকে পাওয়া যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে সহায়তা করছে বলে তারা মনে করছেন।শুক্রবার পিয়ংইয়ংয়ে প্রচারকর্মীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কিম জং উন। কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি সেখানে বলেন, আধুনিক ‘আদর্শিক যুদ্ধ’ পরিচালনায় পুরোনো পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি না করে নতুনত্ব, সৃজনশীলতা ও আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রয়োজন।