নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এ কথা জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিতে, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় করতে এবং তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসানে হরমুজ প্রণালি এখন গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরান চাইছে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ কমাতে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হোক।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছে তেহরান।ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্তগুলো মেনে নিলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে ইরানের ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকারসহ নিজেদের পারমাণবিক অধিকার থেকে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান।ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মার্কিন দাবিও তারা মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। এর অন্যতম কারণ, ইরান ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করেছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি এবং অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি।তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।