নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ শরতের আগমনে সর্বত্রই এখন পুজোর হাওয়া। আর মাত্র দিন কয়েকের অপেক্ষা। তাই ঊনকোটি জেলাতেও জোর কদমে চলছে ঊমা বরণের প্রস্তুতি। ফটিকরায়ে দুর্গাপুজোর মণ্ডপেই এবার ফুটে উঠবে মায়াপুর ইসকন মন্দিরের প্রতিচ্ছবি। তারজন্য পূজো উদ্যোক্তা ও নির্মাণ শ্রমিকদের মধ্যে চলছে জোর ব্যস্ততা। কেউ ব্যাস্ত মন্ডপের সাজশয্যায়, কেউ আবার কাদামাটির প্রলেপ দিয়ে গড়ে তুলছেন দেবীর অবয়ব। শেষ মুহূর্তে পুজোকে ঘিরে কার্যত তুঙ্গে পুজো প্রস্তুতি।
ঊনকোটি জেলার ফটিকরায়ে দ্বিতীয় বছরের দুর্গোৎসবে দর্শনার্থীদের চমক দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আমি হিন্দু দুর্গাপূজা কমিটি।
পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনা হতেই রাজ্যজুড়ে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি এখন কার্যত মধ্য গগনে। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকাতেও চলছে নজরকাড়া মণ্ডপ তৈরি থেকে সুদৃশ্য প্রতিমা নির্মাণের কাজ। সেই আবহে ফটিকরায় দ্বাদশশ্রেণি বিদ্যালয়ের মাঠে আমি হিন্দু পূজা কমিটির উদ্যোগে নবদ্বীপের শিল্পীদের হাত ধরে তৈরি হচ্ছে মায়াপুর ইসকন মন্দিরের আদলে পুজো মণ্ডপ।
পুজো কমিটির সহ-সম্পাদক রাজীব দাস জানান, সংগঠনের নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধ্যাত্মিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই বিশেষ উদ্যোগ তাদের। দর্শনার্থীরা যাতে নিজেদের এলাকায় থেকেই মায়াপুর ইসকন মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপ দেখার সুযোগ পান, সেটাই অন্যতম লক্ষ্য তাঁদের। এবারের পুজোয় তাদের বাজেট প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা। পঞ্চমীতে মণ্ডপের উদ্বোধন এবং সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা থাকছে বলে জানালেন পুজো কমিটির সহ-সম্পাদক।
মায়াপুর ইসকন মন্দিরের আদলে এই মণ্ডপ তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন নবদ্বীপের মণ্ডপশিল্পী পাসু গোপাল মজুমদার। তাঁর তত্ত্বাবধানেই চলছে মণ্ডপের নির্মাণ ও সাজসজ্জার সার্বিক কাজ। মন্ডপশিল্পী জানান, ফাইবার ও ফোমের ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতা এবং ৫৫ ফুট প্রস্থের মণ্ডপটি। নকশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আনা হয়েছে নবদ্বীপ থেকে। স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে বাঁশ ও কাঠের সরঞ্জাম। প্রায় দেড় মাস ধরে সাতজন শ্রমিক দিন-রাত পরিশ্রম করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মণ্ডপটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার। তিন দশকের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই গ্রামীণ এলাকা ফটিকরায়ের দুর্গাপুজোয় মায়াপুরের মন্দিরের আদল ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত মন্ডপশিল্পী পাসুগোপাল মজুমদার।
হাতে সময় আর বেশি নেই। তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত উদ্যোক্তা ও শিল্পীরা। দ্বিতীয়বারের মতো গ্রামীণ অঞ্চল ফটিকরায়ে আমি হিন্দু পূজা কমিটির উদ্যোগে প্রায় ২৭ লক্ষ টাকার এই আয়োজনে মায়াপুরের ইসকন মন্দির দুর্গাপুজোয় দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেই আশাবাদী পুজো উদ্যোক্তারা।