নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ রাত পোহালেই দেবীর বোধন, চারদিকে এখন শুধুই পুজোর আবহ। কিন্তু উৎসবের মরশুমেও খোদ কুমারঘাট শহরের বাজারেই উধাও কেনাকাটার চেনা উন্মাদনা। নতুন পোশাক আর কসমেটিকসের দোকানে নেই তেমন ক্রেতার ভিড়। ফলে দোকানগুলোতে দেখা যাচ্ছে বিক্রির খরা। আর্থিক সংকট, অনলাইন কেনাকাটা ও শপিংমলের দাপটে পুজোর বাজারে কার্যত ম্লান স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মুখের হাসি।
ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট শহরে রিলায়েন্স ট্রেন্ডস ও মেট্রো বাজারের মতো শপিংমলতো ছিলই, পাশাপাশি পুজোর মুখে নতুন করে শহরে ব্যবসা শুরু করেছে বিশাল মেগামার্ট নামে আরো একটি ঝা চকচকে শপিং মল। পুজোর মুখে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে রকমারি অফার চলছে বিভিন্ন মলের তরফে। এই পরিস্থিতিতে আকর্ষণীয় অফারের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। শহরের কাপড় ব্যবসায়ী মিঠন পালের কথায়, মহালয়ার দুদিন আগে থেকে শুরু হয়েছে পূজোর বাজার। তার মতে, বড় দোকানগুলিতে কিছু ক্রেতা থাকলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যারের দোকানগুলোতে আশানুরূপ নয় পুজোর বিক্রি। পুজোর মুখে শহরে চালু হওয়া শপিংমলের সরাসরি প্রভাব ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের উপর পড়েছে বলে মন্তব্য করেন কুমারঘাটের মিঠন টেক্সটাইলের কর্ণধার।
একই সুর অপর কাপড় ব্যবসায়ী বাপ্পি দাসের মুখেও। তাঁর দাবি, বিগত দিনে পুজোর মাস কয়েক আগে থেকেই কেনাকাটা শুরু হতো বাজারে। কিন্তু অনলাইন বাজার, শপিংমল এবং মানুষের আর্থিক সংকটের কারণে এবছর কমেছে বিক্রি। এতে পুজোর চাঁদা দেওয়া-সহ অন্যান্য খরচ সামলাতেও ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন বলে জানালেন কাপড় ব্যবসায়ী বাপ্পি দাস।
কাপড়ের পাশাপাশি কসমেটিকসের দোকানগুলিতেও বিক্রির অবস্থা খারাপ। পুজোতে নতুন ডিজাইনের কসমেটিক্স সামগ্রীর চাহিদা থাকলেও ক্রেতার অভাবে হতাশ ব্যবসায়ীরা। শপিংমলের প্রভাব তাঁদের ব্যবসাতেও পড়েছে বলে জানালেন কুমারঘাটের কসমেটিকস ব্যবসায়ী বিভাষ নাথ।
অন্যদিকে, অনলাইন কেনাকাটায় পণ্যের রং ও গুণগত মান নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তোষের কথা তুলে ধরলেন ব্যবসায়ী গৌতম দেব। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী অনলাইনের পণ্যের থেকে আলাদা সামগ্রী দোকানে তুললেও এবছর তাদের শপিংমলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বিক্রি নিয়ে চিন্তা বাড়ছে বলে জানালেন কসমেটিকস ব্যবসায়ী গৌতম দেব।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, অনলাইন কেনাকাটা ও বড় শপিংমলের প্রসারে স্থানীয় ব্যবসার পাশাপাশি প্রভাবিত হচ্ছে শহরের অর্থনীতিও। তাঁদের মতে, স্থানীয় দোকানে কেনাকাটা বাড়লে উপকৃত হবেন ছোট ব্যবসায়ীরা, সচল থাকবে শহরের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। পুজোর মরশুমে বাজারের দোকানগুলিতে প্রত্যাশিত ভিড় না থাকার কারণে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা।