দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুঙ্গিয়াকামী রেল স্টেশনে থামল আগরতলা–শিলচর এক্সপ্রেস ট্রেন। শনিবার এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ১৫৬৬৩/১৫৬৬৪ নম্বর ট্রেনের যাত্রাবিরতির সূচনা হলেও, এই আড়ম্বরপূর্ণ উদ্বোধনের আড়ালে রয়ে গেল একাধিক প্রশ্ন ও অসন্তোষ।
জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা গত ২৮ নভেম্বর কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী'কে চিঠি দিয়ে যাত্রাবিরতির দাবি জানান। রেল দপ্তরের অনুমোদন মিলতেই শুরু হয় প্রস্তুতি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—
এই যাত্রাবিরতির বাস্তবিক প্রয়োজনীয়তা ও পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
যেখানে ট্রেন থামানো হচ্ছে, সেই মুঙ্গিয়াকামী স্টেশনের পরিকাঠামো এখনও অপ্রতুল। নেই পর্যাপ্ত প্ল্যাটফর্ম সুবিধা, নিরাপত্তা ব্যাবস্থা সহ একাধিক সমস্যা।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ— শুধুমাত্র মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা উনি উনার রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ট্রেন থামাচ্ছেন মুঙ্গিয়াকামী স্টেশনে অথচ যাত্রীদের জন্য ন্যূনতম সুবিধাও নেই।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, সাংসদ কৃতি সিং দেববর্মণ, রেল আধিকারিক সহ একাধিক অতিথি।
তবে স্থানীয়দের মতে, এই যাত্রাবিরতির বাস্তব সুফল পেতে হলে চাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন।
নয়তো এই থামা হবে শুধুই এক দিনের ‘ফটোসেশন’ মাত্র।
যদিও বলা হচ্ছে, এই যাত্রাবিরতির ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যাবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত খুলবে, কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে—
যদি স্টেশনে ন্যূনতম সুবিধা না থাকে, তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে উপকৃত হবে?
তবে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সচেতন মহলের দাবি
- স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা গড়ে তোলা হোক, যাত্রীদের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট সময়সূচি ও তথ্য প্রচারে জোর দেওয়া হোক এবং রাজনৈতিক প্রচারের বদলে বাস্তব উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হোক।
এই যাত্রাবিরতি যদি সত্যিই জনস্বার্থে হয়ে থাকে, তবে তার সুফল পেতে হলে প্রয়োজন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন।
নয়তো এই থামা হবে শুধুই একটি রাজনৈতিক কৃতিত্বের প্রচার, যার বাস্তব প্রভাব থাকবে না সাধারণ মানুষের জীবনে।
প্রশ্ন একটাই—রেল থামল ঠিকই, কিন্তু উন্নয়নের গতি কি আদৌ চলবে?