বসন্তের আবাহনে রঙের ছোঁয়ায় মুখরিত দোল উৎসব। দেশের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি ত্রিপুরা জুড়েও নানা আয়োজনে পালিত হলো এই উৎসব। ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটে হোলি উৎসবে সামিল আট থেকে আশি সব বয়সের মানুষ। সরকারিভাবেও কুমারঘাটে উদযাপন করা হলো দোল উৎসব।
হোলি উপলক্ষে এদিন সকাল থেকেই কুমারঘাট শহর ও আশপাশ এলাকার রাস্তায় দেখাগেলো রঙে রাঙা যুবক-যুবতীদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস। আবিরে রঙিন মুখ, হাতে পিচকারি, আর চারদিকে হাসি-আনন্দের আবহ।
হোলি প্রসঙ্গে কুমারঘাটের রাহুল দত্ত নামে এক যুবক জানান, বছরে একবারই আসে এই বিশেষ দিন। তাই বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বেরিয়ে রঙ খেলায় মেতে ওঠেন তারা। ছোটদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, বড়দের আবির দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেওয়া সব মিলিয়ে ভরপুর ভাবেই দিনটি উপভোগ করেন তারা। বাইট--রাহুল দত্ত।
রঙ খেলায় সামিল সঞ্জয় রায় ও রাজেশ পালও তুলে ধরেন হোলি উৎসবে তাদের আনন্দঘন অভিজ্ঞতার কথা। তারা বলেন, হোলি উপলক্ষে বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে দিনভর উৎসবের আনন্দ উপভোগ করছেন তারা। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর হোলিতে মানুষের অংশগ্রহণ কিছুটা কম বলেও জানিয়েছেন দুজনেই।
এদিকে সরকারিভাবেও কুমারঘাটে উদযাপিত হলো মহকুমা ভিত্তিক দোল উৎসব। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে কুমারঘাটের লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের হলঘরে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঊনকোটি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি সন্তোষ ধর। উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক সুভাশিষ সেনগুপ্ত, মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি দেবদাস চৌধুরী, কুমারঘাট পৌর পরিষদের চেয়ারপার্সন বিশ্বজিৎ দাস সহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠানে দোল উৎসবের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভার পাশাপাশি পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বক্তব্য রাখতে গিয়ে সহকারী সভাধিপতি সন্তোষ ধর বলেন, দোল উৎসব অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক। দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধন অটুট রাখতে এই ধরনের উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। আবিরের রঙে যখন সবার মুখ রাঙে, তখন মিলিয়ে যায় ছোট-বড় বা গোষ্ঠীগত বিভেদ।\
সব মিলিয়ে দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে এদিন রঙের আনন্দে মেতে উঠেছিল গোটা কুমারঘাট মহকুমা। বসন্তের এই রঙিন উৎসব আরও একবার প্রমাণ করলো ভালোবাসা আর সম্প্রীতির রঙই সবচেয়ে গাঢ়।