রাজ্যেও স্পেশাল সিবিআই আদালতে বেআইনি অর্থ লগ্নী সংস্থা বা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির বিচার কাজ চলছে ।এর অঙ্গ হিসেবে শনিবার আগরতলায় একটি চিটফান্ড মামলায় তিন অভিযুক্তের সাজা ঘোষণা করেছে সিবিআই'র বিশেষ আদালত ।সাজাপ্রাপ্তরা হলো প্রগতিশীল ইনফ্রা প্রজেক্ট এন্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের সিএমডি অরিন্দম দাস, এডমিনিস্ট্রেটিভ ডাইরেক্টর দীপশিখা দাস চক্রবর্তী এবং সংস্থার এমডি পরিতোষ দাস ।২০০৯ সাল থেকে কৈলাসহরে প্রগতিশীল ইনফ্রা প্রজেক্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের কর্পোরেট অফিস পরিচালিত হয়ে আসছিল। জমা টাকার দ্বিগুণ ম্যাচুরিটি দেওয়া হবে বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে চলছিল এই কোম্পানিটি। কালক্রমে আগরতলা ,শান্তির বাজার, উদয়পুর সহ অসমের বরাক ভ্যালিতে শাখা অফিস স্থাপন করেছিল এই সংস্থাটি ।কিন্তু ২০১১ সালের পর থেকে সংস্থাটি গ্রাহকদের ম্যাচুরিটির টাকা ফেরত দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে কোম্পানির আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মামলা হয় ।এই মামলার পর সংস্থার আধিকারিক কলকাতায় গিয়ে মাতৃ ফিন্যান্স নামে আরও একটি কোম্পানি খুলে এবং অনুরূপ ব্যবসা শুরু করে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয় ।মামলায় সাতজন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন । দীর্ঘ শুনানি কালে ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর শনিবার আগরতলার সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের বিচারক দেবাশীষ কর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন। সাজায় ১২০- বি ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয়,। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয়। পাশাপাশি সিবিআই এর সেকশন সি ধারায় ৬ বছরের জেলহাজত ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয় ।এদিন সংশ্লিষ্ট মামলায় সিবিআই এর পক্ষে স্পেশাল পিপি প্রসেনজিৎ সাহা এই সংবাদ জানিয়েছেন।এদিন মামলার স্পেশাল পিপি প্রসেনজিৎ সাহা আরো জানান ,সংশ্লিষ্ট মামলায় কোম্পানির বিরুদ্ধেও সাজা ঘোষণা করা হয় ।কোম্পানিকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয় ।সংশ্লিষ্ট প্রগতিশীল ইনফ্রা প্রজেক্ট এন্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ ছিল বলে জানান আইনজীবী প্রসেনজিৎ সাহা।