দেশের গরীব জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যেই জি-রাম-জিআইন। শনিবার বিজেপির সদর গ্রামীণ জেলার উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই কথা জানান প্রদেশ বিজেপির অন্যতম সহ-সভাপতি সুবল ভৌমিক।
মন রেগা আইন বাতিল করে জি রাম জি আইন চালু করার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলন সংঘটিত করে চলছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি । বিরোধীদের জবাব দিতে মাঠে নেমেছে ভারতীয় জনতা পার্টি । বর্তমানে প্রতিটি জেলায় জেলায় এবং সাংগঠনিক জেলায় চলছে বিজেপির সাংবাদিক সম্মেলন ।এর অঙ্গ হিসেবে শনিবার সদর গ্রামীন জেলার উদ্যোগে জি-রাম-জি আইন নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করা হয় ।সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিজেপির প্রদেশ সহ-সভাপতি সুবল ভৌমিক। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, রেগা কর্মসূচি বন্ধ করা হয়নি ।একে আরো উন্নত করা হয়েছে। রেগা প্রকল্পে কোন কর্মসংস্থান ছিল না ।মানুষের কাছে একটা অলংকারে পরিণত হয়েছিল রেগা ।এর কার্যকরী কোন ভূমিকাই ছিল না। বর্তমানে নতুন আইন করে রেগার কাজ সময়োপযোগী করা হয়েছে ।দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন এই আইন অনেক ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করেন তিনি। প্রদেশ বিজেপি সহ-সভাপতির অভিযোগ, রেগা নিয়ে বিস্তর কেলেঙ্কারি ছিল। বাম আমলে রেগা প্রকল্পে সাড়ে দশ হাজার বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ত্রিপুরা রাজ্যে সাড়ে ১৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পুকুর খনন করা হয়েছিল। এক কথায় রেগায় পুকুর চুরি হয়েছিল। রেগার কাজে মজুরি দেওয়া হত ।কিন্তু কোন সম্পদ সৃষ্টি হতো না ।রেগা প্রকল্পের পরিকাঠামো এবং ফল প্রদানে ব্যর্থতা ছিল। রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে রেগাকে ব্যবহার করা হয়েছিল ।যে সম্পদ সৃষ্টি করা হয়েছে তা নিম্ন মানের ছিল ।এগুলি কোন প্রকারের কাজে আসেনি ।একই পুকুর পাঁচবার খনন দেখানো হয়েছিল ।প্রদেশ বিজেপি সহ-সভাপতি আরো জানান, রেগা প্রকল্পের আমূল পরিবর্তন দরকার ছিল ।এই পরিবর্তনকে মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় সরকার নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ।গ্রামীণ স্তরের জীবিকার বিষয়টিকে শক্তিশালী করতেই এই আইন বলে জানান তিনি ।তিনি আরো জানান ,গরিব মানুষ যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে সেই লক্ষ্যে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের প্রেক্ষাপট এবং গুরুত্ব বিবেচনা করেই ভিবি জি রাম জি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে নতুন আইন নিয়ে বামপন্থীদের বিরোধিতা প্রসঙ্গে প্রদেশ বিজেপি সহ সভাপতি সুবল ভৌমিক বলেন ,একসময়ে পার্লামেন্টে ৬৪ সদস্যের সিপিআইএম দল রেগার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব ছিল। তারা এর বিরোধিতা করেছিল ।আজ তারাই আবার রেগা রেগা বলে চিৎকার করছে ।এই ধরনের রাজনীতির কারণেই তাদের মানুষ বিশ্বাস করেনি ।এর ফলে লোকসভায় আজ শূন্য হয়ে গেছে তারা ।এখন তারা রাগা নিয়ে মায়া কান্না করছে।