চৈত্র মাসের প্রথম দিনেই প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল ত্রিপুরার উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমার একাধিক এলাকা।

Mar 17, 2026

চৈত্র মাসের প্রথম দিনেই প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল ত্রিপুরার উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমার একাধিক এলাকা।

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ

চৈত্র মাসের প্রথম দিনেই প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল ত্রিপুরার উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমার একাধিক এলাকা। রবিবার গভীর রাতে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে তিনটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বসতঘর, দোকানপাট, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে বহু পশুপাখিরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,    রবিবার রাত আনুমানিক পৌনে একটা নাগাদ দফায় দফায় প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তাণ্ডব চালায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়। এতে ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ড, পূর্ব ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং চুড়াইবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের আংশিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।       ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে চুড়াইবাড়ি বাজারের অন্তত ১৫ থেকে ২০টি দোকান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। কিছু দোকান ঘূর্ণিঝড়ে উড়ে যায়, আবার কিছু দোকানের ছাউনি ছিঁড়ে গিয়ে গাছের ডাল, সুপারি গাছের মাথা এবং বিদ্যুতের তারে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি একাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে রাস্তায় পড়ে গেছে এবং বহু জায়গায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় রবিবার রাত থেকেই বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়ে পড়েছে।  এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জানান, ঘূর্ণিঝড়ের খবর পেয়ে বাজারে এসে তিনি দেখেন গোটা বাজার তছনছ হয়ে গেছে। তার কেবিনেটের আর কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি প্রশাসনের কাছে ক্ষয়ক্ষতির তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান।ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান আব্দুল সালাম জানান,   ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে গোটা এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও বাড়ির ছাউনি উড়ে গেছে, আবার কোথাও বড় বড় গাছ পড়ে বাড়িঘর ভেঙে গেছে। এছাড়াও এলাকার বহু দরিদ্র পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস মূল্যবান আগরগাছ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘূর্ণিঝড় এর আগে এলাকার মানুষ কখনো দেখেননি।” ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের কাছে দ্রুত সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।এদিকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও দোকানিদের পাশে জেলা বা মহকুমা প্রশাসনের কেউ না পৌঁছানোয় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিভাগ