বুধবার পহেলা বৈশাখ। বাঙালির বিশেষ কয়েকটি পার্বনের মধ্যে এই দিনটি অন্যতম। পহেলা বৈশাখ মানেই শুভেচ্ছা বিনিময় থেকে নতুন পোশাক পড়া এবং চুটিয়ে ভুরিভোজের দিন।
বিভিন্ন প্রান্তের সাথে ত্রিপুরা জুড়েও উৎসাহ উদ্দীপনায় উদযাপন করা হচ্ছে বৈশাখ মাসের প্রথম দিনটিকে। এই উপলক্ষে রাজ্যের শহর থেকে গ্রামের বিভিন্ন বাজারে সকাল থেকেই দেখা গেল ক্রেতা সাধারনের উপচে পড়া ভিড়।
ঊনকোটি জেলার কুমারঘাট শহরের বাজার এবং পার্শ্ববর্তী ফটিকরায়ের গ্রামীন বাজারেও দেখা গেল ক্রেতা সাধারণের মধ্যে মাছ মাংস ও মিষ্টি কেনার ধুম। কুমারঘাটের পাবিয়াছড়া বাজারে নববর্ষের কেনাকাটা করতে আসা প্রদীপ দেবনাথ নামে এক ব্যক্তি জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মাছ, মাংস, দই, মিষ্টি, সবজি কিনতেই বাজারে এসেছেন তিনি। বছরের প্রথম দিনে পরিবার-পরিজনদের নিয়ে আনন্দে কাটানোর পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাজারে বেড়েছে মাছ-মাংসের দাম। এতে মধ্যবিত্ত ও গরিব শ্রেণীর লোকেদের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে বলে জানালেন ঐ ব্যক্তি।
এদিকে পাবিয়াছড়া বাজারে ময়ূখ মালাকার নামে এক মাছ বিক্রেতা জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বসেছে বিশেষ বাজার। তবে এবছর বাজারে অনেকটাই কম স্থানীয় মাছের যোগান। যার ফলে চাহিদা বেড়েছে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ থেকে আমদানি হওয়া মাছের।
অন্যদিকে বাজারের অপর এক মাছ বিক্রেতা গোবিন্দ সরকার বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাজারে রয়েছে রুই, কাতল, ইলিশ, বোয়াল, গলদাচিংড়ি সহ আরো বিভিন্ন মাছের সম্ভার। এবছরের বাজারে স্থানীয় কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে এবং সবচাইতে বেশি ২০০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ।
সকাল সকাল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাজার করতে আসা দেবজ্যোতি মিত্র নামে এক যুবক জানান, বছরের একটি দিন পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দে কাটাতে এবং দুপুরে জমিয়ে ভূরিভোজের জন্যই বাজার করতে এসেছেন তিনি। পহেলা বৈশাখের দিনে ইলিশ মাছ খাবার ইচ্ছে থাকলেও বাজারে ইলিশ মাছের দাম চড়া থাকার কারণে ৬০০ টাকা দরে কাতল মাছ কিনেছেন তিনি।
এদিকে মাছ মাংসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এদিন শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানেও দেখা গেল ক্রেতা সাধারনের উপচে পড়া ভিড়ের দৃশ্য। রীতিমতো লাইনে দাঁড়িয়েই পহেলা বৈশাখের মিষ্টি নিচ্ছেন মানুষ। কুমারঘাটের মিষ্টি বিক্রেতা পঙ্কজ রায় বলেন, নববর্ষ উপলক্ষে সকাল পাঁচটা থেকে শুরু হয়েছে তাদের দোকানের বিশেষ বিক্রি। তিনি বলেন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বহু দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসেন মিষ্টি নিতে। গোটা দিনভর চলবে তাদের এই বিক্রি। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিশেষ করে ক্ষীরের দই, ছানার জিলাপি সহ তৈরি করা হয়েছে রকমারি মিষ্টি।
অন্যদিকে শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকা ফটিকরায় বাজারেও এদিন ব্যাপক হারে চলে মাছ মাংসের বিক্রি। ফটিকরায় বাজারের এক মাংস বিক্রেতা পিন্টু দেব জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সবাই বাজারমুখী হয়েছেন সকাল থেকে। নববর্ষের বাজারে রয়েছে পাঁঠার মাংস, দেশি মোরগ এবং ব্রয়লার মোরগের মাংস। এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসেন এই বাজারে কেনাকাটা করতে।
বাজারে দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি হলেও নববর্ষের দুপুরে ভোজন রসিক বাঙালির পাতে পাঁঠার মাংস কিংবা ইলিশ মাছ ছাড়া যেন ঠিক জমেনা পহেলা বৈশাখের দুপুরের সেই ভূরিভোজ। তাই নববর্ষের দুপুরে পরিবার-পরিজন নিয়ে জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া করতে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে মাছ মাংস থেকে দই মিষ্টি কেনাতে কোন খামতি রাখতে যেন নারাজ কুমারঘাট ফটিকরায়ের খাদ্য রসিক বাঙালিরাও।