নয়া লুকে জিৎ

Jul 24, 2026

নয়া লুকে জিৎ

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ   অনন্ত সিংয়ের দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল জীবনের নানা অধ্যায়কে পর্দায় ধরতেই ৯ রূপের পরিকল্পনা। তরুণ বিপ্লবী, আত্মগোপনে থাকা পলাতক, বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মানুষ— প্রতিটি পর্যায়ের জন্য আলাদা শারীরিক গঠন, রূপটান, পোশাক এবং স্টাইলিংয়ে তৈরি হয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়। বিপ্লবী না ডাকাত— অনন্ত সিং রূপে প্রকাশ্যে ধরা দিলেন টালিউডের সুপারস্টার জিৎ। একজন মানুষ। অথচ ৯টি ভিন্ন চরিত্রে উপস্থাপন। যেন এক অনন্য অভিনেতা, যা কেবল জিতের পক্ষেই সম্ভব। ইতিহাস যাকে কখনো স্বাধীনতা সংগ্রামী, কখনো আবার দুর্ধর্ষ ডাকাত হিসাবে মনে রেখেছেন, সেই অনন্ত সিংকে পর্দায় জীবন্ত করতে অভাবনীয় রূপান্তরের পথে হাঁটলেন জিৎ। ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ সিনেমায় অভিনেতার ৯টি ‘লুক’ সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।নির্মাতাদের দাবি, প্রতিটি ‘লুক’ শুধু চেহারার বদল নয়, চরিত্রের মানসিক বিবর্তনেরও প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টায় কোনো ত্রুটি রাখা হয়নি। এ রূপান্তরের নেপথ্যে রয়েছেন রূপটানশিল্পী সোমনাথ কুণ্ডু। তার নেতৃত্বে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলে গবেষণা, ঐতিহাসিক তথ্য খতিয়ে দেখা এবং একাধিক ‘লুক টেস্ট’। সোমনাথ বলেন, অনন্ত সিংয়ের জীবনের প্রতিটি পর্বকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সূক্ষ্ম ও নিখুঁত পরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল। একই সঙ্গে চরিত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।এ বিষয়ে পরিচালক পথিকৃৎ বসু বলেন, অনন্ত সিংকে কোনো একটি পরিচয়ে বেঁধে রাখা যায় না। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে তাকে বিভিন্ন চোখে দেখা হয়েছে। সে কারণেই এ সিনেমাটি আলাদা অবতার রয়েছে। পরিচালক বলেন, প্রতিটি ‘লুক’ দর্শকদের সামনে চরিত্রটির একেকটি অজানা স্তর উন্মোচন করবে। এ ছবিতে জিৎ শুধু চেহারা বদলাননি, প্রতিটি পর্যায়ে চরিত্রটির মানসিক অবস্থাকেও আত্মস্থ করেছেন বলে জানান পথিকৃৎ বসু। ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ সিনেমার গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ষাটের দশকের কলকাতা। শহরে একের পর এক পরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। তদন্তে নামেন ইন্সপেক্টর দুর্গাপ্রসাদ রায়। যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন টোটা রায়চৌধুরী। তদন্তের সূত্র ধরে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় অনন্ত সিংয়ের অতীত। একসময় মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে স্বাধীনতা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পর সমাজে দুর্নীতি ও আদর্শের অবক্ষয় তাকে অন্য পথে হাঁটতে বাধ্য করে। এর পরেই শুরু হয় তার নতুন লড়াই— যেখানে তিনি আইনের চোখে অপরাধী, কিন্তু অনেক নিপীড়িত মানুষের রক্ষাকর্তা।‘নন্দী মুভিজ’ ও ‘জিৎজ ফিল্মওয়ার্কস’ প্রযোজিত ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ সিনেমায় সংগীত পরিচালনা করেছেন শান্তনু মৈত্র। সিনেমা মুক্তির আগেই জিতের ৯টি লুক দর্শকের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে।