কুমারঘাটের শিক্ষক-শিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর বেহাল অবস্থা

Jul 31, 2026

কুমারঘাটের শিক্ষক-শিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর বেহাল অবস্থা

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃত্রিপুরায় বাম আমলে নির্মিত কুমারঘাট শিক্ষক-শিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ের হোস্টেল ও কলেজের পরিকাঠামোর উন্নয়ন হলোনা রাম আমলেও। ডবল ইঞ্জিনের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরো বেহাল ভবিষ্যতের শিক্ষক তৈরীর কলেজের অবস্থা। সমস্যা নিরসনে উদাসীন ত্রিপুরার জোট প্রশাসন। ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটের শিক্ষক-শিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর বেহাল অবস্থা। অফিসিয়াল স্টাফের সংকটে ধুঁকছে মহাবিদ্যালয়। বেহাল অবস্থা কলেজের দুটি ছাত্রাবাসের। বিদ্যুতের গোলযোগে হোস্টেলে প্রায়শই থাকেনা পানীয় জল। ছাত্রীদের তুলনায় হোস্টেলে নেই পর্যাপ্ত বিছানা ফলে নির্ধারিত বিছানায় নিজেদের মতো করে মানিয়ে থাকতে হয় ছাত্রীদেরকে। একথা স্বীকার করলেন খোদ কলেজের প্রিন্সিপাল ডক্টর নিবাস চন্দ্র শীল।   রাজ্যের শিক্ষা বিপ্লবের এমন অবস্থায় কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ।ত্রিপুরায় ডবল ইঞ্জিন সরকারের শাসনে একেবারে যেন দফারফা শিক্ষা ব্যবস্থার। রাজ্যের সব কটি স্কুলই প্রায় ধুঁকছে শিক্ষক স্বল্পতা সহ পরিকাঠামোগত ত্রুটিতে। এমনই অভিযোগ প্রতিনিয়ত উঠে আসছে রাজ্যের অভিভাবক মহল থেকে বিরোধী দলের তরফে।রাজ্যের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার যে করুণ অবস্থা চলছে তা এবারে যেন অকপটে উঠে এলো কুমারঘাট শিক্ষক শিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ডক্টর নিবাস চন্দ্র শীলের বক্তব্য থেকে। ২০১৫ সালে রাজ্যের বুকে কুমারঘাটে শিক্ষক-শিক্ষণ মহাবিদ্যালয় গড়ে তুলেছিল তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি বা পরিস্থিতির প্রসার ঘটলেও বর্তমান সরকারের শাসনে কোন পরিবর্তন‌ই হয়নি বাম আমলে নির্মিত এই কলেজটির বলে অভিযোগ।বেশ কিছুদিন ধরে কুমারঘাটের এই সরকারি শিক্ষক শিক্ষণ মহাবিদ্যালয় নিয়ে উঠেছিল বিস্তর অভিযোগ। মূলত কলেজ হোস্টেলের বেহাল অবস্থা এবং হোস্টেলে পানীয় জলের সমস্যা সহ কলেজের পরিকাঠামগত ত্রুটির একাধিক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল কলেজটিকে ঘিরে। আর সেই অভিযোগের‌ই সত্যতা উঠে এলো খোদ কলেজ অধ্যক্ষের বক্তব্যে। কলেজের বর্তমান অবস্থা এবং পরিকাঠামগত বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, মোট ৩৫০ ছাত্র-ছাত্রী প্রতিবছর লেখাপড়া করে এই কলেজে। কলেজে রয়েছে মোট ১৭ জন শিক্ষক শিক্ষিকা। তিনি বলেন অফিসের কাজের জন্য কলেজে কর্মী থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় কলেজের জন্য। আরো কর্মী বাড়ালে অফিসের কাজ চলতো আরো সুন্দরভাবে। কলেজের হোষ্টেল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কলেজে রয়েছে ছেলে এবং মেয়েদের জন্য পৃথক পৃথক দুটি হোস্টেল। ছেলেদের হোস্টেলে ৮০ থেকে ১০০ জনকে থাকার ব্যবস্থা দেওয়া যায় এবং  মেয়েদের হোস্টেলে ৬০ থেকে ৬৫ জন থাকার ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমান সময়ে সেখানে আরো বেশি ছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি। হোস্টেলের সমস্যা প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিংবা দীর্ঘ সময়ের লোড শেডিং হলে হোস্টেলে দেখা দেয় জলের সমস্যা।   না,শুধু এখানেই শেষ নয় সরকারি এই কলেজের সমস্যার কাহিনী। কলেজে আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে মেয়েদের হোস্টেলের বিছানার সমস্যা। এবিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ জানান, কলেজে ছাত্রদের তুলনায় বেড়েগেছে ছাত্রীর সংখ্যা। হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা এতোটা দেওয়া না গেলেও পড়ুয়াদের দাবির ভিত্তিতে সবদিক বিবেচনা করে ছাত্রীদের বেশি করে জায়গা দিতে বাধ্য হন হোস্টেল সুপাররা। এটা ছাত্রীদের জন্য বেশ চাপের বিষয়। এই সমস্যাকে ছাত্রীদের মানিয়ে নিতে হয় বলে জানান কলেজ অধ্যক্ষ। উনার কথাতেই স্পষ্ট যে, ছাত্রীদের চাহিদা মতো বিছানার ব্যবস্থা দেওয়া সম্ভব হয়না হোস্টেলে। তাছাড়া সরকারিভাবে নিযুক্ত কোন ওয়ার্ডেন‌ও নেই এই কলেজে। দুজন অধ্যাপিকা হোস্টেলে কাজ করেন সুপার হিসেবে। কলেজের শুরু থেকেই ছিলোনা কোন ওয়ার্ডেন। তাই হোস্টেল সুপারদেরকেই সামলাতে হয় বিভিন্ন দায়িত্ব।   এদিন কলেজের এসব সমস্যা সমাধানের জোরালো দাবী জানান কলেজ অধ্যক্ষ।কুমারঘাটের বিএড কলেজের অধ্যক্ষের এসব বক্তব্য থেকেই উঠে এলো ডবল ইঞ্জিনের শাসনে রাজ্যের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার আরো এক করুন চিত্র।ভবিষ্যতের শিক্ষক তৈরির অন্যতম এই সরকারি প্রতিষ্ঠানেই যখন পরিকাঠামোগত নানা সংকট প্রকট হয়ে উঠছে, তখন রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক চিত্র নিয়েও নতুন করে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। ত্রিপুরায় ডাবল ইঞ্জিনের শাসনে  শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নের দাবি যতই করা হোক না কেন, কুমারঘাট শিক্ষক-শিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা সেই দাবির বাস্তবতা নিয়ে জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্কের। 

বিভাগ