নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ উজানের ভারী বর্ষণে রাত তিনটে থেকেই হাওড়া নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ভোরের আলো ফোটার আগেই হাওড়ার জল ডুবিয়ে দেয় বলদা খাল এলাকার পথ ঘাট বাড়িঘর সবকিছু। হঠাৎ করে জলের ঠেলায় স্থানীয়দের মধ্যে কোলাহল শুরু হয় ।কোলাহলে ঘুম থেকে উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে এই দৃশ্য দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৭০ বছর বয়স্কা এক মহিলা। একদিকে জলের বান এবং অন্যদিকে হঠাৎ করে বৃদ্ধার অসুস্থতা- এই দুইয়ে মিলে উদ্বেগ বাড়ায় সংশ্লিষ্ট পরিবারের পরিজনদের মধ্যে। অসুস্থ মাকে কিভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায় তা নিয়ে শুরু হয় বাড়ির দুই পুত্রের চিন্তাভাবনা। প্রশাসনের লোকজনেরা তখনও নৌকা নিয়ে এলাকায় এসে পৌঁছয়নি। এই অবস্থায় মাকে কোলে নিয়ে জল কাদা পেরিয়ে তিন চাকার ঠেলায় তুলে হাসপাতালে পৌঁছানোর উদ্যোগ নিলেন দুই পুত্র, এবং পরিবারের অন্যান্যরা। মাকে ঠেলায় শুইয়ে জল ভর্তি রাস্তা অতিক্রম করেন তারা। এভাবে চন্দ্রপুর এলাকায় পৌঁছে অটোয় করে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। এদিকে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে ,প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল এদিন বলদাখাল এলাকার এক পরিবারের তিন দিনের এক শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে সেল্টার হাউসে পৌঁছে দেন। বলদা খাল এলাকার অনেক বাড়ি ঘরের গবাদি পশুও উদ্ধার করেন প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবকরা। উল্লেখ্য বলদাখাল এলাকাটি শহরের অন্যতম নিম্নাঞ্চল হিসেবেই পরিচিত। একটু বৃষ্টি হলেই হাওড়া নদী তার কুল ছাপিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকা প্লাবিত করে দেয়। নদীর জলের প্লাবন জনিত এই অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী রয়েছে। কিন্তু রবিবারের এই অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। রাত তিনটা থেকে জলের প্লাবন শুরু হয়।দেখতে দেখতে দেড় ঘন্টার মধ্যেই বলদাখাল এলাকার দুকুল ভাসিয়ে দেয় হাওড়া নদীর জল। শুধু তাই নয়, সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত নদীর জলস্তর একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে ।সে সময় জলস্তর ছিল ১০.৮৬ সেন্টিমিটার যা বিপদসীমার অনেকটাই উপরে।