বিজেপির শাসনে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে : অমিত শাহ

Aug 22, 2026

বিজেপির শাসনে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে : অমিত শাহ

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ  বিজেপির শাসনে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, জোর দিয়ে বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার শিলিগুড়িতে তিনটি নতুন ফৌজদারি আইনের ওপর আয়োজিত প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, "এখানে একসময় ক্যাডার-রাজ চলত। যখন কমিউনিস্টরা ক্ষমতায় ছিল, তখন ক্যাডার-রাজ ছিল। যখন তৃণমূল ক্ষমতায় এল, তখন দুষ্কৃতীদের ক্যাডার-রাজ চলল। আর এখন যখন শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখন এখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি এক বিশাল পরিবর্তন। আমি যখন সিএএ নিয়ে এসেছিলাম, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে উপহাস করে বলতেন—'কীভাবে এটা করবেন? আমরা এটা মানব না।' মমতা দিদি, আপনি এটা মানেননি ঠিকই, কিন্তু আপনি এবং আপনার সরকার—উভয়ই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। এখন ক্ষমতায় বিজেপি। আমি বাংলাদেশের হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের কথা দিচ্ছি যে, ৬ মাসের মধ্যে আমরা আপনাদের নাগরিকত্ব প্রদান করব। সিএএ-র প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বাংলার ৮ জন জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়েছে। এই সব শরণার্থী নিশ্চিতভাবেই ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। তবে অনুপ্রবেশকারীরা যেন এটা শুনে আনন্দিত না হন। বাংলার সরকারের কঠোর সিদ্ধান্ত হলো—শনাক্তকরণ, তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার করা।"কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, "এমন অনেক বিষয় রয়েছে: শিখ-বিরোধী দাঙ্গার ঘটনায় তিন দশক পরেও ন্যায়বিচার মেলেনি; ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় ন্যায়বিচার পেতে ২৬ বছর, নানুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১০ বছর এবং আজমের গণধর্ষণ মামলায় ৩২ বছর সময় লেগেছে। এখন '৩টি টি'-এর মাধ্যমে সমগ্র বিচারব্যবস্থা বদলে যেতে চলেছে: প্রযুক্তি, স্বচ্ছতা এবং সময়সীমা।" অমিত শাহ বলেন, "একসময় এই রাজ্য রবীন্দ্রসংগীতে মুখরিত থাকত। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে এই রাজ্য বোমা বিস্ফোরণের ভয়ে থাকত; অ্যাসিড হামলা থামেনি—সে আরজি কর মেডিকেল কলেজের বর্বরতা হোক বা সন্দেশখালির যন্ত্রণা, দুর্গাপুর মেডিকেল কলেজে ধর্ষণ বা দক্ষিণ কলকাতা ল কলেজে শ্লীলতাহানি— কোনও ক্ষেত্রেই কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমি নিশ্চিত যে সরকারের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনও পরিবর্তিত হচ্ছে। ১৫ বছর পর বাংলায় আবারও আইনের শাসন নিশ্চিত হবে।"অমিত শাহ আরও বলেন, "সারা দেশে এই নতুন আইনগুলি কার্যকর করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেননি। এর কারণ হলো, নতুন আইন কার্যকর হলেই সিন্ডিকেট, কাটমানি, টোল ট্যাক্স এবং ভয়ের পরিবেশ চুরমার হয়ে যাবে। বাংলার নির্বাচনে বিজেপি জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল— আমাদের ওপর ভরসা রাখুন, আমরা আপনাদের 'ভয়ের নয়, ভরসার সরকার' উপহার দেব। দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী যখন প্রথম নথিতে স্বাক্ষর করেছিলেন, তখন তা ছিল 'ন্যায় সংহিতা' কার্যকর করা এবং এখান থেকে ব্রিটিশ আমলের আইন বাতিলের বিষয়ে।"

বিভাগ