দেশের সেবায় গৌরবময় ২৮ বছর পূর্ণ করে বর্তমানে উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগরে অবস্থানরত এবং কৈলাসহর এলাকায় ভারত–বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)-এর ১৯৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ন ২০২৬ সালের ১লা জানুয়ারি অত্যন্ত উৎসাহ, উদ্দীপনা ও দেশপ্রেমের আবহে তাদের ২৯তম রাইজিং ডে উদযাপন করে।
পানিসাগরস্থ বিএসএফ সেক্টর হেডকোয়ার্টার্স ক্যাম্পাসে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে বিএসএফের আধিকারিক ও জওয়ানদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসাগর সেক্টর বিএসএফ-এর ডিআইজি শ্রী রাজীব ভাটসরাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলার জেলা শাসক ডক্টর তমাল মজুমদার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৯ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কমান্ড্যান্ট শ্রী অতুল সাইনি প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অসামরিক অতিথিদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি ব্যাটেলিয়নের দীর্ঘ গৌরবময় ইতিহাস, ত্যাগ ও সাফল্যের কথা তুলে ধরেন এবং সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের অবিচল সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নিজের ভাষণে ডিআইজি শ্রী রাজীব ভাটসরাজ ব্যাটেলিয়নের সকল স্তরের আধিকারিক ও জওয়ানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি জওয়ানদের নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও অপারেশনাল দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।
রাইজিং ডে উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিএসএফ জওয়ানদের পরিবেশনায় সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান উপস্থিত সকলের মন জয় করে নেয়। এই সাংস্কৃতিক পরিবেশনাগুলির মাধ্যমে বাহিনীর ঐক্য, প্রতিভা ও উচ্চ মনোবল স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। অংশগ্রহণকারী সাংস্কৃতিক দলগুলিকে প্রধান অতিথির হাতে স্মারক তুলে দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
এছাড়াও ব্যাটেলিয়নের সমৃদ্ধ রেজিমেন্টাল ঐতিহ্য ও সর্বোচ্চ পেশাদার মান বজায় রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালের জন্য বিভিন্ন ট্রেডে শ্রেষ্ঠ কর্মদক্ষতা প্রদর্শনকারী জওয়ানদের ট্রফি ও প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অসামান্য অপারেশনাল দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দলগত ঐক্যের স্বীকৃতি হিসেবে ‘সি’ কোম্পানিকে ২০২৫ সালের বেস্ট সার্ভিস কোম্পানি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি কোম্পানি কমান্ডারকে তাঁর উৎকৃষ্ট নেতৃত্ব, দক্ষ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ট্রফি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে ‘কমিউনিটি লাঞ্চ’ বা ‘বড় খানা’-র আয়োজন করা হয়, যেখানে আধিকারিক, জওয়ান ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা একত্রে অংশগ্রহণ করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও দৃঢ় করেন।
সার্বিকভাবে, বিএসএফের ১৯৯ নম্বর ব্যাটেলিয়নের ২৯তম রাইজিং ডে উদযাপন দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বাহিনীর দৃঢ় অঙ্গীকার, শৃঙ্খলা ও অটুট মনোবলের এক স্মরণীয় নিদর্শন হয়ে রইল।