ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নজির গড়ার পর এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে বিশ্ব মঞ্চে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে নিল ত্রিপুরার উত্তর জেলার ধর্মনগরের খুদে প্রতিভা শ্রীয়াংশ শাস্ত্রী।মাত্র ২৫ মাস বয়সেই পরপর এমন বিরল কৃতিত্ব অর্জন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে গোটা এলাকা— যা উত্তর জেলার ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
মাত্র ১৮ মাস বয়সেই মানব শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নাম নির্ভুলভাবে বলা এবং ২০টি পশুপাখি চিহ্নিত করার অসাধারণ দক্ষতার জন্য শ্রীয়াংশ লাভ করে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এর মেডেল ও শংসাপত্র। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেনি এই খুদে বিস্ময়ের যাত্রা।
এরপর ২৪ মাস বয়সে শ্রীয়াংশ অনায়াস দক্ষতায় তুলে ধরে মোট ৩৬টি কনটেন্ট—
যার মধ্যে রয়েছে---মাইথোলজি বিষয়ক জ্ঞান,৩৬টি পশুপাখির নাম,ভারতবর্ষের সমস্ত রাজ্য ও তাদের রাজধানীর নাম ইত্যাদি।
এই অভাবনীয় প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে শ্রীয়াংশ স্থান পায় ওয়ার্ল্ড কিংস টপ রেকর্ডস ২০২৫-এ (ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এর অন্তর্ভুক্ত)। সংস্থার পক্ষ থেকে তাকে প্রদান করা হয় মেডেল, শংসাপত্র, সার্টিফিকেট ও স্মারক কলম।
ধর্মনগর শহরের চন্দ্রপুর পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষ পল্লী এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিত শাস্ত্রী ও স্বপ্না দাসের একমাত্র সন্তান শ্রীয়াংশ। বয়স সবে ২৫ মাস, অথচ এই অল্প বয়সেই তার প্রতিভা পৌঁছে গেছে জাতীয় স্বীকৃতির মঞ্চে।
শ্রীয়াংশের বাবা বিশ্বজিত শাস্ত্রী জানান,
“মাত্র ১৩ মাস বয়স থেকেই ছেলে এসব বিষয় অনায়াসে বলতে ও চিনতে পারত। তার প্রতিভা দেখে আমরা ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল, ১৮ মাস বয়সে প্রথমবার ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে আবেদন করি। এরপর ২৮ এপ্রিল সংস্থা থেকে মেডেল ও শংসাপত্র পাই।”
তিনি আরও জানান,
“২৪ মাস বয়সে, গত নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আবারও ছেলের কৃতিত্ব তুলে ধরি। এর ফলস্বরূপ ১৯ নভেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ার্ল্ড কিংস টপ রেকর্ডস ২০২৫-এ স্থান পায় শ্রীয়াংশ। যদিও আধার কার্ড সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিংয়ে নাম ওঠেনি।”
মাত্র ২৫ মাস বয়সে পরপর দুটি বড় স্বীকৃতি— উত্তর জেলার ধর্মনগরের একটি গ্রামীণ এলাকা থেকে এমন সাফল্য এই প্রথম। শ্রীয়াংশের কৃতিত্বে গর্বিত তার বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন এবং এলাকার সাধারণ মানুষ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বাবা-মা জানান,
“ছেলের প্রতিভাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তাকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেই আমাদের সব প্রচেষ্টা।”
খুদে শ্রীয়াংশের এই সাফল্যে এখন খুশির জোয়ার গোটা ধর্মনগর জুড়ে। অনেকেই মনে করছেন— আগামী দিনে এই ছোট্ট প্রতিভাই একদিন ত্রিপুরার নাম উজ্জ্বল করবে বিশ্বদরবারে।