পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে তিল্লাই বাতাসা তৈরীর কারখানায় চরম ব্যস্ততা।

Jan 09, 2026

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে তিল্লাই বাতাসা তৈরীর কারখানায় চরম ব্যস্ততা।

নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে তৈরি হচ্ছে তিল্লাই ও বাতাসা। ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার ফটিকরায়ের গোকুলনগর গ্রামে তিল্লাই বাতাসা তৈরিতে কারিগরদের ব্যস্ততা চরমে। প্রয়োজনীয় লোকের অভাবে চাহিদা অনুযায়ী সম্ভব হচ্ছেনা যোগান দেওয়া।

হতাশার সুর কারিগরদের মুখে।

সামনেই পৌষ সংক্রান্তি। হিন্দু বাঙালিদের জন্য এই পৌষ সংক্রান্তি কিংবা মকর সংক্রান্তি একটি অন্যতম পার্বণ। পৌষ সংক্রান্তির দিনে গ্রাম কিংবা শহরেও বের হয় নগর কীর্তন। বাড়ি বাড়িতে হয় হরির লুট। আর সেই লুটের প্রধান উপাচার তিল্লাই ও বাতাসা। তাই পৌষ সংক্রান্তি এলেই কদরবারে তিল্লাই-বাতাসার। দুয়ারে কড়া নাড়ছে পৌষ পার্বণ। সংক্রান্তিকে সামনে রেখে তাই বিভিন্ন কারখানায় শুরু হয়েছে তিল্লাই ও বাতাসা তৈরির কাজ। ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার ফটিকরায়ের গোকুলনগর গ্রামে থাকা রমাপদ পালের কারখানাতেও দেখা গেলো তিল্লাই বাতাসা তৈরিতে ব্যস্ততার ধুম। রমাপদ বাবুর মা ষাটোর্ধ্ব অঞ্জলি পাল জানান,   প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তি এলেই হয় তিল্লাই ও বাতাসা তৈরির কাজ। বাড়ির ছোট থেকে বড়ো সবাই মিলেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন এই কাজে। দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে চলে আসছে তাদের এই কাজ। বৃদ্ধা জানান, ১৫ বছর বয়স থেকেই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত তিনি। বর্তমানে পুত্র ও পুত্রবধূ এবং নাতি-নাতনিরা করছে এ কাজ, সাথে সঙ্গ দিচ্ছেন তিনিও। আগে সকাল থেকে রাতভর এই কাজ চলতো বলে জানালেন বৃদ্ধা অঞ্জলি পাল।   

 

যুগ যুগ ধরেই গোকুলনগরের এই পালবাড়িতে চলে আসছে তিল্লাই ও বাতাসা তৈরির কাজ। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে প্রতিবছরই এই কাজ করা হয় বলে জানালেন রমাপদ পাল। আক্ষেপের সুরে তিনি জানান, এই কাজে মানুষ এখন আসতে চাননা। তাই লোক পাওয়া যায়না কাজের জন্য। ফলে বেশি করে তৈরি করা যাচ্ছেনা তিল্লাই বাতাসা। তবুও বাপ ঠাকুরদাদাদের পেশাকে ধরে রেখেই এগিয়ে চলেছেন তারা। তিনি জানান, বাইরের দুজন শ্রমিকদের নিয়ে পরিবারের সবাই মিলেই এখন করতে হচ্ছে এই কাজ। রমাপদ বাবু জানান এই কাজ শিখতে এখন আগ্রহী নন কেউ। এই অবস্থায় তারা কতোদিন কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন তানিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

 

রমাপদ বাবু বলেন,  বাবার  কাছ থেকে এই কাজ শিখে বর্তমানেও এটাকে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তারা। তিনি বলেন, বাপ ঠাকুর দাদাদের সময় থেকে এটাই ছিল তাদের রোজগারের মূল উৎস। কিন্তু বর্তমানে এটা থেকে কমেছে আয়ের পরিমাণ। আগে সংক্রান্তির দেড় মাস আগে থেকেই শুরু হতো এই কাজ। কিন্তু বর্তমানে মাত্র ১৫ দিন আগে থেকে কাজ শুরু হয় বলে জানালেন তিনি। আগে এই তিল্লাই বাতাসা তৈরীর কাজ দেখতে বাড়ীতে ভিড় জমাতেন মানুষ। কিন্তু বর্তমানে আর আসেননা কেউই। কাজের বিনিময়ে মানুষ অধিক টাকা দাবি করায় এই পেশা চালিয়ে যাওয়া রীতিমতো চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের পক্ষে।

 

মানুষের বর্তমান ব্যস্ত জীবনশৈলীতে এই পেশাকে টিকিয়ে রাখা এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ রামাপদবাবুদের মতো কারিগরদের পক্ষে। তবুও পৌষ পার্বনকে ঘিরে এখন কিশোরী থেকে বৃদ্ধা, পুরুষ থেকে মহিলা সবাই মিলেই ব্যাস্ত প্রাচীন পেশাকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে।