তেলিয়ামুড়া মহকুমায় সরকারি সম্পদে অনিয়মের অভিযোগ: CBI তদন্তের দাবি

Mar 01, 2026

তেলিয়ামুড়া মহকুমায় সরকারি সম্পদে অনিয়মের অভিযোগ: CBI তদন্তের দাবি

 নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ   তেলিয়ামুড়া ও কল্যাণপুর এলাকার বাসিন্দারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকারি সম্পদ এবং জমি সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে। সম্প্রতি দুইটি চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে সরাসরি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি দপ্তরের নজরে আনা হয়েছে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং বেআইনি ম্যানেজমেন্টের বিষয়। প্রথম চিঠিটি চিফ সেক্রেটারি, ত্রিপুরা সরকার, আগরতলা বরাবর পাঠানো হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তৎকালীন সময়ে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (SDM), তেলিয়ামুড়া — শ্রী অভিজিত চক্রবর্তী এবং তহশিলদার, কল্যাণপুর — শ্রী দিনেশ সরকার সম্প্রতি একটি দুইতলা ARDD অফিস নির্মাণ করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা প্রদান করেন। প্রায় ১ কোটি টাকার সরকারি অর্থ ব্যয় করে, যা মৌজা-মধ্য কল্যাণপুরের প্লট নং ৩০৬১ তে অবস্থিত। স্থানীয় ও সচেতন জনতার প্রশ্ন, ২০১৮ সালে ওই জমি NH-208 (তেলিয়ামুড়া থেকে খোয়াই) সড়ক নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে ঘোষণা করা হয় যে, বর্তমান সরকার এই রাস্তা বাস্তবায়ন করবে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে কেন বড় পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করে নতুন অফিস নির্মাণ করা হলো। উল্লেখ্য ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ইং তারিখ মন্ত্রীর সুধাংশু দাসের হাত ধরে উদ্বোধন হলো। প্রশ্নের উত্তর একটাই দু বছর না যেতেই কেন ভাঙ্গা হলো কিভাবে, এই রাস্তার জায়গায় বিল্ডিংয়ের পারমিশন দেওয়া হয়েছে, প্রথমেই বলেছিলাম বিজেপি সরকারকে বদনাম করতে এ ধরনের কর্মচারী হাত গুটিয়ে লেগে পড়েছেন। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, দোষীদের সরকারি সম্পদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্থ ফেরত দিতে হবে বা তাদের সাসপেনশন দিতে হবে, না হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ অনিয়ম পুনরায় ঘটতে পারে এবং সরকারকে প্রতিনিয়ত চাপে ফেলে যাবে, পাশাপাশি সরকারি অর্থের আদ্যশ্রাদ্ধ করবেন। দ্বিতীয় চিঠিটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, NHIDCL, আগরতলা বরাবর পাঠানো হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, শ্রী তপন দাশপুরকায়স্থ (লক্ষ্মীনারায়ণপুর) নামের ব্যক্তি NH-208 সড়কের জন্য সরকারি জমি হস্তান্তর করলে একই জমির জন্য দুইবার আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে, প্রথমবার ৫২ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয়বার ৫৫ লাখ টাকা। চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত অর্থ ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, “বিভিন্ন সময় আমরা PMU, তেলিয়ামুড়া NHIDCL অফিসের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে এই বিষয় জানাই, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে জানা যায়, সমস্ত কার্যক্রম মহকুমা শাসক বর্তমানে অতিরিক্ত জেলাশাসক অভিজিৎ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।” এলাকার সচেতন নাগরিকরা জোর দিয়ে দাবি করছেন, এই ধরনের মামলায় সরাসরি CBI-এর নজরদারি এবং যথাযথ তদন্ত পরিচালিত হোক। তারা আশাবাদী, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ হলে ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে। এখন দেখার বিষয় অভিজিত চক্রবর্তী, তৎকালীন সময়ের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট, তেলিয়ামুড়া, যিনি বর্তমানে অতিরিক্ত জেলাশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন এবং দিনেশ সরকার, তহশিলদার। এই মামলায় স্থানীয়দের বক্তব্য, সরকারি অর্থ এবং সম্পদের অপব্যবহার প্রতিরোধ করা না গেলে সাধারণ মানুষ সরকারের প্রতি আস্থা হারাতে পারে। আমরা চাই সম্পূর্ণ স্বচ্ছ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি।