নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ
রাজ্যের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি, বেকারত্ব এবং শিল্পোন্নয়ন নিয়ে বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। শনিবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রদেশ মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী, এসসি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান নিরঞ্জন দাস এবং যুব কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি নীলকমল সাহা।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, দেশ বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যার প্রমাণ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রিপোর্টে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে "ডেসটিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ" আয়োজন করে শুধুমাত্র প্রচারের রাজনীতি করা হচ্ছে। অতীতেও একাধিকবার বিনিয়োগকারীদের নিয়ে বিজনেস সামিট হয়েছে, কিন্তু সেইসব উদ্যোগের বাস্তব ফলাফল সম্পর্কে সরকার আজও স্পষ্ট কোনও রিপোর্ট প্রকাশ করেনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যে কতগুলি নতুন শিল্প স্থাপিত হয়েছে, কতজনের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং পূর্ববর্তী বিজনেস সামিট থেকে রাজ্য কী লাভ পেয়েছে— এসবের জবাব সরকারকে দিতে হবে। তাঁর দাবি, কর্মসংস্থানের অভাবে ত্রিপুরার বহু যুবক-যুবতী অন্য রাজ্য ও বিদেশে কাজের সন্ধানে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রবীর চক্রবর্তী আরও অভিযোগ করেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, সবজি চাষি ও রাবার চাষিরা এখনও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাননি। পাশাপাশি তিনি বলেন, জনগণনা (সেন্সাস)-এর কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ না করে চুক্তিভিত্তিকভাবে বেকার যুবকদের নিয়োগ করা হোক। এতে যেমন সেন্সাসের কাজ সম্পন্ন হবে, তেমনি বহু বেকার যুবক সাময়িক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই "ডেসটিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ" আয়োজন করা হচ্ছে, যা মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরানোর এবং বেকারদের বিভ্রান্ত করার রাজনৈতিক প্রচেষ্টা। পূর্ববর্তী বিজনেস সামিটগুলির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশেরও দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে প্রবীর চক্রবর্তী দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।