নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ লাগাতর পঞ্চায়েত সচিবের অনুপস্থিতির কারণে দুর্ভোগের শিকার জনগণ। গুরুত্বপূর্ণ কাজে দূরদূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষ পঞ্চায়েতে আসলেও মিলছে না সচিবকে। এমনই গুরুতর অভিযোগ ভুক্তভোগী গ্রামবাসীদের। পঞ্চায়েত সচিবের এমন খামখিয়ালিপোনার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ত্রিপুরা জেলার কদমতলা ব্লকাধীন পূর্ব ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ মূলে পূর্বে এই পঞ্চায়েতের সচিব ছিলেন সিতেন্দ্র চন্দ্রনাথ। উনার সময় থেকেই পঞ্চায়েতে চলতো অনিয়মিত কাজকর্ম। সপ্তাহে একদিন বা কোন সপ্তাহে আবার দুদিন এর থেকে বেশি তিনি পঞ্চায়েতে উপস্থিত থাকতেন না। অর্থাৎ প্রতি মাসে পাঁচ থেকে ছয় দিন তিনি পঞ্চায়েতে আসতেন এবং অন্যান্য অনুপস্থিতির দিনগুলো রেজিস্টার খাতায় সই করে যেতেন। এমনই গুরুতর অভিযোগ গ্রামবাসী সহ পঞ্চায়েতের একাংশ সদস্যদের। এই নিয়ে পঞ্চায়েত সদস্যরা সচিবকে একাধিকবার প্রশ্ন করলে উনার সাব কথা ব্লকে কাজ করতে হয়। তাই তিনি পঞ্চায়েতে সময় দিতে পারেননি। এদিকে গ্রামের জনগণ ফেমিলি রেজিস্ট্রিসহ বার্থ সার্টিফিকেট, ডেথ সার্টিফিকেট সহ নতুন নাম শুদ্ধি করণ ইত্যাদি কাজের জন্য পঞ্চায়েতে আসলে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।তাছাড়াও উনার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। পঞ্চায়েত এলাকায় কান পাতলেই শোনা যায় উনার বিভিন্ন দুর্নীতির কেচ্ছা। যাইহোক তিনি বর্তমানে পূর্ব ফুলবাড়ি পঞ্চায়েত থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। কিন্তু উনার পরিবর্তে আসা নতুন পঞ্চায়েত সচিব চন্দনকুমার দাস একই দেখানো পথে হাঁটছেন, বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী গ্রামবাসীদের। তিনি পঞ্চায়েতে যোগ দিয়েছেন প্রায় পনেরো দিন হয়েছে। কিন্তু তিনিও সপ্তাহে একদিন বা দুদিন পঞ্চায়েতে আসেন এবং এক সঙ্গে রেজিস্টারে স্বাক্ষর করে চলে যান। আজ এমনই ঘটনার সাক্ষী রইলো গ্রামবাসীরা। গুরুত্বপূর্ণ কাজে আসা গ্রামবাসীরা একসময় ক্ষুব্ধ হয়ে সচিবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। কিন্তু ততক্ষণে দুপুর একটার মধ্যে সচিব চন্দনকুমার দাস অফিসে তালা ঝুলিয়ে চলে যান। পরে ভুক্তভোগী জনগণ সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। এদিকে এই বিষয়ে পঞ্চায়েতের দুই সদস্য সহ উপপ্রধান জয়নাল আবেদীনকে প্রশ্ন করলে উনারাও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং নিজেরাও যে প্রচন্ড চাপে রয়েছেন তাও জানান। কিন্তু এই সমস্যার সমাধানের জন্য তারাও ব্লক আধিকারিক এর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান। এখন দেখার বিষয় ব্লক আধিকারিক উৎপল দাস সহ উচ্চ আধিকারিকরা এই বিষয়ে কতটুকু নজর দেন এবং পঞ্চায়েতের কাজকর্ম স্বাভাবিক হয় কিনা ?