নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ গোপন খবরের ভিত্তিতে নেশা বিরোধী অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল মুঙ্গিয়াকামি থানার পুলিশ। মঙ্গলবার মুঙ্গিয়াকামি রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বহিরাজ্যের দুই যুবককে আটক করার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে মোট ১৯৪ বোতল নিষিদ্ধ এসকফ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নেশাজাতীয় সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা বলে জানা গেছে।ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মুঙ্গিয়াকামি থানার ওসি রাজু বৈদ্য-এর নেতৃত্বে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ রুটিন ডিউটিতে থাকাকালীন গোপন সূত্রে খবর আসে যে, মুঙ্গিয়াকামি রেলস্টেশন এলাকায় সন্দেহজনকভাবে দুই যুবক ঘোরাফেরা করছে। খবর পাওয়ার পর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ দ্রুত ওই এলাকায় পৌঁছে সন্দেহভাজন দুই যুবকের গতিবিধির উপর নজর রাখে।পরবর্তীতে পুলিশ দুই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তাদের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা লক্ষ্য করা যায়। এতে পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। এরপর তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশির উদ্যোগ নেওয়া হয়।তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের ডি.সি.এম সন্দীপ দেববর্মার উপস্থিতিতে আটক দুই যুবকের সঙ্গে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় ব্যাগের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ এসকফ। সবমিলিয়ে ১৯৪ বোতল এসকফ উদ্ধার করতে সক্ষম হয় মুঙ্গিয়াকামি থানার পুলিশ।ডি.সি.এম সন্দীপ দেববর্মা জানান, উদ্ধার হওয়া নেশাজাতীয় সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে এই সামগ্রী কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।এদিকে, আটক বহিরাজ্যের দুই যুবকের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা দায়ের করে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান ডি.সি.এম সন্দীপ দেববর্মা। আটক যুবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই নেশা পাচারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।মুঙ্গিয়াকামি থানার ওসি রাজু বৈদ্যর নেতৃত্বে পুলিশের এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় নেশা কারবারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা আরও একবার স্পষ্ট হল। বিশেষ করে রেলস্টেশনকে ব্যবহার করে নেশাজাতীয় সামগ্রী পাচারের চেষ্টা রুখতে পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।নেশার বিরুদ্ধে পুলিশের এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। আটক দুই যুবকের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে নেশা পাচারচক্রের মূল উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সন্ধান করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।