নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রেক্ষিতে দেশটিকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দখল’ করার একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) টেক্সাস সফরের উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তবে এই ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দখল’ বলতে তিনি ঠিক কী বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বর্তমানে কিউবার শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার চরম অবনতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটির সরকারের কাছে এখন কোনো অর্থ বা সম্পদ নেই, তাই তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা বলছে। ট্রাম্পের মতে, দশকের পর দশক ধরে বৈরি সম্পর্ক থাকা এই দ্বীপরাষ্ট্রটি বর্তমানে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে এবং তারা এখন আমেরিকার সাহায্যপ্রার্থী।এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মাত্র দুই দিন আগে ফ্লোরিডা থেকে যাওয়া একটি স্পিডবোটে থাকা ১০ সশস্ত্র কিউবান নাগরিকের সঙ্গে দ্বীপটির উত্তর উপকূলে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ ঘটে। কিউবা সরকারের দাবি, ওই সংঘর্ষে চারজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন । এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কিউবার ওপর চাপ আরও বেড়েছে, কারণ ভেনিজুয়েলা থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ট্রাম্প আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, কিউবার অর্থনীতি এতটাই দুর্বল যে সেখানে সামরিক অভিযানের প্রয়োজন নাও হতে পারে, কারণ এটি নিজের ভারেই ভেঙে পড়তে পারে।এদিকে, আমেরিকার অভ্যন্তরে কিউবান নির্বাসিত সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, কিউবা থেকে বিতাড়িত হয়ে যারা যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছেন, তাদের জন্য ইতিবাচক কিছু ঘটতে যাচ্ছে। ১৯৬২ সাল থেকে কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর ট্যারিফ আরোপের নির্বাহী আদেশ জারি করায় দেশটির জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টিরও বেশি নাগরিক সমাজ ও ধর্মীয় সংগঠন। তারা কংগ্রেসের কাছে একটি চিঠিতে ট্রাম্পের এই নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, কিউবায় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা সেখানে মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। তারা একে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে। কিউবার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ ডি কসিও এক বার্তায় বর্তমান পরিস্থিতিকে কিউবার জনগণের ওপর মার্কিন নিপীড়ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।