নিউস ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ বলিউডে সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট মানদণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনার গুঞ্জন চলছে। এ নিয়ে কটু কথাও শুনতে হয়েছে অভিনেত্রী দিয়া মির্জাকে। সম্প্রতি দ্য পিপলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌন্দর্যের প্রচলিত মানদণ্ড, বয়স নিয়ে বৈষম্য এবং কসমেটিক সার্জারি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। কীভাবে নারীদের প্রায়শই ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের চেহারা উন্নত করতে বলা হয়। কেন নারীদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বদলে ফেলতে উৎসাহিত করা হয়। এমনকি তাকে স্তন বড় করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। কসমেটিক সার্জারি প্রসঙ্গে দিয়া মির্জা বলেন, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তাকে নিজের চেহারা বদলানোর পরামর্শ দেওয়া হতো। কখনো বলা হয়েছে ঠোঁটে ফিলার করাতে, আবার কখনো স্তনের আকার বড় করতে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে— এই মন্তব্যগুলো কোনো নারী নয়; বরং পুরুষের কাছ থেকেই এসেছে।অভিনেত্রী বলেন, এটা ভয়ঙ্কর। এখন অনেক নারী কসমেটিক সার্জারির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কিন্তু বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক। কারণ এ ইন্ডাস্ট্রির চালিকাশক্তি মূলত পুরুষরা। তাদের তৈরি করা এ ব্যবস্থার ভিত্তিই হলো মানুষের অনিরাপত্তা ও ভয়। তিনি বলেন, যখন কোনো নারী নিজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যকে অস্বীকার করে ভাবতে শুরু করেন যে, কসমেটিক সার্জির মাধ্যমে তাকে আরও সুন্দর হতে হবে, তখন সেটাই একটি ফাঁদ। এতে তারা নিজেদের প্রকৃত সত্তাকে গ্রহণ করতে পারে না।দিয়া মির্জা বলেন, একটা সময় তাকে বয়স ও চেহারা নিয়ে নানা মন্তব্য শুনতে হয়েছে। আমাকে বারবার বলা হয়েছে— আমার শরীরে কী পরিবর্তন করা উচিত, কী করলে আরও সুন্দর দেখাবে। কিন্তু এসব কথা কোনো নারী বলেনি। তিনি বলেন, কোনো নারী কখনো এসে আমাকে বলেনি— তোমার ঠোঁট পাতলা, ফিলার করাও কিংবা তোমার স্তন ছোট, বড় করাও। এ ধরনের মন্তব্য সবসময় পুরুষের কাছ থেকেই এসেছে— এটাই সত্যি।অভিনেত্রী বলেন, এসব মন্তব্য তাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছিল। শুনে অদ্ভুত লাগত। কারণ তখন তিনি দুটি বিউটি টাইটেল জিতে ফেলেছেন। খুবই তরুণী ছিলাম, তখনো আমার বয়স ২০ বছর হয়নি। তারপরও বারবার শুনতে হয়েছে— কখনো পরিচালক, কখনো প্রযোজক, আবার কেউ নিজেকে বিশেষজ্ঞ বলে এসব পরামর্শ দিতেন। কিন্তু কোনো নারীকে এমন কথা বলতে আমি কখনো শুনিনি বলে জানান দিয়া মির্জা।